ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মিয়ানমারে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে সামরিক জান্তা। আগে থেকে চারটি মামলার মধ্যে থাকা এ নেত্রীর বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতিবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সেনা নিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেল মিয়াওয়াদিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ধনকুবের সু চিকে ঘুষ প্রদানের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী ওই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা দখল করে। তখন থেকে সু চিকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ানো, অবৈধ রেডিও সরঞ্জাম ব্যবহার, করোনা বিধিনিষেধ ভঙ্গ ও অবৈধভাবে অর্থগ্রহণের অভিযোগ এনেছে সামরিক সরকার। সু চির আইনজীবীরা দাবি করে আসছেন, সব অভিযোগই রাজনৈতিক, সু চি কোনও বেআইনি কাজ করেননি।
এরইমধে বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে মিয়াওয়াদি টিভিতে মিয়ানমারের ব্যবসায়ী মং উইকের একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সু চিকে নিজের ব্যবসায়িক কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর শর্তে কয়েক বছরে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছেন তিনি। চার দফায় সু চির বাসভবনে গিয়ে নিজেই এই নগদ অর্থ দিয়েছেন বলে জানান পিয়াং কনস্ট্রাকশনের সহ-সভাপতি উইক। তবে তার দাবি, এই ঘটনায় তৃতীয় কোনও সাক্ষী নেই।
এরপর মিয়াওয়াদি টিভিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘অং সান সু চি দুর্নীতি করেছেন এবং কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী আওতায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
এর আগে গত সপ্তাহে সু চির বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে ৬ লাখ ডলার ও স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগ আনে দেশটির সামরিক জান্তা। ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর সু চির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে।









