আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য না হয়েও সংকট উত্তোরণের বৈশ্বিক এই বিচারিক প্রতিষ্ঠানকেই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগাতে চাইছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতারা। অভ্যুত্থান পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের জন্য সেনা নেতৃত্বকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করতে চায় তারা। প্রকাশ্যে সেনা সরকারের বিরোধিতাকারী জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব উপায় খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করেছেন ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিয়মিতভাবেই জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে সরকারি বাহিনী। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছে।
মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার উপায় খুঁজছেন ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতারা। জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত কিয়াও মোয়ে তুন বলেন, ‘এর মধ্যে আইসিসি একটি উপায়। আমরা আইসিসি’র সদস্য রাষ্ট্র নই, কিন্তু মামলাটি আইসিসিতে নিতে আমাদের উপায় ও পথ খুঁজতে হবে।’
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে বলপ্রয়োগ, বিনা বিচারে আটক এবং গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে বিদেশি সরকারগুলো উদ্যোগ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।
মিয়ানমারের সেনা সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল প্রয়োজন পড়লে বলপ্রয়োগ করছে। কিন্তু বাস্তবতা আলাদা। দেশটির বিভিন্ন শহর ও উপশহর ছেড়ে পালিয়ে বহু মানুষ থাই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষের মধ্যে ধর্মঘটের নেতা, অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, চাকরি ছেড়ে দেওয়া পুলিশ ও সেনা সদস্য, পার্লামেন্ট সদস্য এবং চিকিৎসকও রয়েছেন। ভারত সীমান্তের দিকেও পালাচ্ছে মানুষ।
এদিকে, বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে ভিন্নমতালম্বীদের দমনের ওপর জোর দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। স্বাধীন সম্প্রচারমাধ্যম ডেমোক্র্যাটিক ভয়েস অব বার্মা জানিয়েছে বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ করেছে।









