রাজতন্ত্র সংস্কারের দাবিতে ফের থাইল্যান্ডের রাজপথে সমবেত হয়েছে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা। শনিবার রাজধানী ব্যাংককের রাস্তায় জড়ো হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন রাজতন্ত্র সংস্কার ছাড়াও দেশটির গণতন্ত্রপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের মুক্তির দাবিতে সরব হয় বিক্ষোভকারীরা।
শনিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেয় সহস্রাধিক মানুষ। বিক্ষোভকারীদের একজন ৬০ বছরের কুং রয়টার্সকে বলেন, আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রের দাবি জানাচ্ছি। আমরা এমন সরকার চাই না; যারা বলবে তারা নির্বাচিত অথচ বাস্তবে তারা সেনাবাহিনী থেকে এসেছে।
তিনি বলেন, দুনিয়া বদলে গেছে। আমরা পশ্চিমা ধাঁচের রাজতন্ত্র চাই।
থাইল্যান্ডের রাজার প্রতি দেশটির জনগণের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। রাজতন্ত্র বিলোপ বা সংস্কারের দাবিও অনেক পুরনো। গত জুলাইয়ে যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজা মহাভিজিরালোংকর্নের ৬৮তম জন্মদিন উদযাপন করা হচ্ছিল তখনও দেশটিতে রাজতন্ত্র অবসানের জোরালো দাবি উঠে।
রাজা মহাভাজিরালোংকর্ন করোনা-সংকট ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই অবকাশ যাপনের জন্য জার্মানিতে পাড়ি দেন। ফলে গত জুলাইয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে নিজের জন্মদিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনেও তিনি থাকতে পারেননি। এদিন রাজধানী ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচার নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ রাজার প্রতি অনুগত থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। প্রথা অনুযায়ী ৬৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর উপস্থিতিতে এ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। তবে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এদিন রাজপথে জড়ো হয়ে রাজার বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে রাজতন্ত্র বিরোধীরা। অনেকের হাতে ছিল রাজতন্ত্র অবসানের দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড।
রাজার সমালোচনা দণ্ডনীয় অপরাধ
থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের তৎপরতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজতন্ত্রের বা রাজার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্যের কারণে তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অ্যাক্টিভিস্ট টিয়াগন উইদিটন নানা বিষয়ে সরকারের সমালোচনার এক পর্যায়ে ‘আমি রাজতন্ত্রের ওপর বিশ্বাস হারিয়েছি’ লেখা টি-শার্ট পরে ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তাকে মানসিক চিকিৎসার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। অবশ্য প্রতিবাদের মুখে দুই সপ্তাহ পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।









