অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ না হলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াইয়ের হুমকি দিয়েছে দেশটির তিনটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মঙ্গলবার তা’য়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি, মিয়ানমার ন্যাশনালিটিজ ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আমি এবং আরাকান আর্মির (এএ) এক যৌথ বিবৃতিতে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মিয়ানমারের অধিকার রক্ষা গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফির পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে নিহত হয়েছে ৫১০ জন বিক্ষোভকারী। এছাড়া গত শনিবার সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে সোমবার এক খোলা চিঠিতে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায় বিক্ষোভকারীদের অন্যতম গ্রুপ জেনারেল স্ট্রাইক কমিটি অব ন্যাশনালিটিজ।
মঙ্গলবার তিনটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিবৃতি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী যদি ‘মানুষ হত্যা অব্যাহত রাখে তাহলে আমরা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করবো এবং পাল্টা লড়াই চালাবো।’ দেশটির আরও কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীও বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিবৃতি দেওয়া তিনটি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে অভ্যুত্থানবিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক উপায়ে সংকট নিরসনের তাগিদও দেওয়া হয়েছে। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিনে থুয়া খা বলেন, ‘এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তা ডেবি স্টোটহার্ড বলেছেন, এই ধরনের গোষ্ঠীগুলো যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয় তাহলে মিয়ানমারের পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর মিয়ানমারে সক্রিয় রয়েছে প্রায় দুই ডজন নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এরা সবাই নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ চায়। কয়েকটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনা সরকার। এই মাসের শুরুতে আরাকান আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে তারা। কিন্তু এই সপ্তাহে কারেন প্রদেশের সীমান্ত অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে।








