মহানবী (সা.)- এর ব্যঙ্গচিত্র বিতর্কে ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান। সহিংসতায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭ জনের। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ফরাসি নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাদের পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসলমাবাদের ফরাসি দূতাবাস। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এখবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের ‘শার্লি এবদো’-তে মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র আঁকাকে কেন্দ্র করেই তাদের প্রতিবাদ। ফ্রান্সের সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক বন্ধের দাবি তাদের। যদিও গত বছর নভেম্বরে ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকার টিএলপির সঙ্গে চুক্তি করেছিল ওই ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বহিষ্কারের ব্যাপারে সম্মতি জানিয়ে। তখন বলা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সেই চুক্তির মেয়াদই শেষ হচ্ছে আগামী ২০ এপ্রিল। ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে দলের প্রধান সাদ হুসেন রিজভিকে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল টিএলপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। অবশেষে তাদের নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যে সব রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছিল তাকে খালি করা হয়েছে। তবে এখনও কিছু স্থানে প্রতিবাদীরা রয়েছে। তাদেরও শিগগিরি সরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পাকিস্তানের অবস্থানরত ফরাসী নাগরিকদের উদ্দেশে পাঠানো ইমেইল বার্তায় ফ্রান্স দূতাবাস বলেছে, পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ফরাসি নাগরিক ও সংস্থাগুলোকে আপাতত দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার আবেদন জানাচ্ছি আমরা। বাণিজ্যিক বিমানসংস্থাগুলোর মাধ্যমে এ দেশ থেকে অন্যত্র যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
গত সোমবার থেকে পাকিস্তানজুড়ে প্রতিবাদ শুরু করে তেহরিক-ই-লাবায়েক পাকিস্তান (টিএলপি)। তাদের প্রধান সাদ হুসেন রিজভির গ্রেফতারির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেছিল তারা। টিএলপি আগে থেকেই সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেছিল, ২০ এপ্রিলের আগেই পাকিস্তানের ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করতে হবে। সেই দাবি মানেনি ইমরান সরকার। সেখান থেকেই শুরু বিক্ষোভ।









