সংস্কারের কথা বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনার ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু তামিলরা নির্যাতিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে দুটি মানবাধিকার সংস্থা। অবশ্য কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থার লোকজন নির্যাতিত মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এদের অনেককেই নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছেমতো আটক, নির্যাতন বা দলবেঁধে ধর্ষণ করেছে।
২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিন সরকার ও তামিল বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। উভয়পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক দ্য ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (আইটিজেপি) সংস্থা জানায়, তারা ১৫ জন নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেছে। এদের বেশির ভাগই ছিলেন সাবেক তামিল টাইগার যোদ্ধা অথবা শিশু কর্মী। সংস্থাটিকে তারা জানিয়েছেন ভয়াবহ নির্যাতনের কথা। কয়েকটি ক্ষেত্রে গত বছর পুলিশ বা সামরিক গোয়েন্দারা তাদেরকে ধরে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছে। এখন তারা শ্রীলঙ্কা ছেড়ে পালিয়েছেন।
সংস্থাটির দাবি ‘সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো’ তামিলদের নির্যাতন ও দমিয়ে রাখতে কাজ করছে। এটা অল্প কয়েকটি ক্ষেত্রে ‘বিপথগামীদের’ দ্বারা হচ্ছে না।
এদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্রম টর্চার জানায়, প্রেসিডেন্ট শিরিসেনার সরকারের সময়ও তারা শ্রীলঙ্কায় ‘অনেক নির্যাতনের’ অভিযোগ পাচ্ছে। সংস্থাটিও সাতজন তামিলের সঙ্গে কথা বলেছে যারা দেশটির সেনা বাহিনী বা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন।
মন্ত্রিসভার মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে নির্যাতনের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তার জানামতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এ ধরনের কোনও তথ্য নেই। মুখপাত্র বলেন, ‘যদি তাদের কাছে কোনও প্রমাণ থাকে তাহলে তা আমাদের কাছে পাঠালে আমরা তা তদন্ত করে দেখব।’
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জয়নাল জাওয়িরাও মানবাধিকার সংস্থা দুটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত মাসে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাভিরা ঘোষণা দেন, মানবাধিকার রক্ষায় সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে অপহরণ নিষিদ্ধ করতে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। শ্রীলঙ্কার ৭০ শতাংশ মানুষ সিংহলিজ বৌদ্ধ। তবে সংখ্যালঘিষ্ঠ তামিলদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
/এএ/








