আফগানিস্তানে নিযুক্ত এক ডজনের বেশি কূটনৈতিক মিশনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তালেবানের নির্মম সামরিক বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার কূটনীতিকরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই হামলা তালেবানের আলোচনায় সমাধান চাওয়ার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপি এখবর জানিয়েছে।
এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কাবুলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাস। কাতারের দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানের আরেক দফা শান্তি আলোচনা কোনও সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই বিবৃতি দেওয়া হলো।
কূটনীতিকদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমঝোতায় সমাধান চাওয়ার দাবির সঙ্গে তালেবানের হামলা সরাসরি সাংঘর্ষিক। এর ফলে টার্গেট করে হত্যাসহ নিরীহ আফগানদের প্রাণহানি, বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুতি, ভবন লুটপাট ও জ্বালিয়ে দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ধ্বংস এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের ক্ষতি হচ্ছে।
কয়েক মাস ধরে আফগান সরকার ও তালেবান কাতারের রাজধানীতে শান্তি আলোচনায় বসছে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতির কথা প্রকাশ্যে আসেনি এখনও। সম্প্রতি তালেবান হামলা জোরদার করে বেশ কিছু ভূখণ্ড দখল করার পর এই আলোচনা কিছু মাত্রায় গুরুত্ব হারায়।
রবিবার শান্তি আলোচনার পর যৌথ বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ একমত হয়েছে একটি সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে এবং আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আফগান প্রতিনিধি দলের দায়িত্বে থাকা আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা আরও একমত হয়েছি আলোচনায় কোনও বিরতি থাকবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, চলমান আলোচনায় কোনও পক্ষই যৌথ অস্ত্রবিরতির কথা বলছে না। যদিও আফগান সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘর্ষ বন্ধের জরুরি আহ্বান জানাচ্ছে।
দোহায় শান্তি আলোচনা চলাকালে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজাদা এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি ‘রাজনৈতিক সমাধানে ভীষণ আগ্রহী’। যদিও আফগানিস্তানজুড়ে তার বাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে।
তালেবান নেতার বিবৃতিতে আসন্ন ঈদুল আজহার সময় আনুষ্ঠানিক অস্ত্রবিরতির কোনও আহ্বানের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
অতীতে তালেবান সংক্ষিপ্ত একাধিক অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি ছুটির দিনগুলোতে। তবে এসব অস্থায়ী অস্ত্রবিরতির সময় নিজেদের রসদ ও যোদ্ধাদের পুনর্গঠিত করে চুক্তির মেয়াদ শেষে আফগান বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।









