আফগানিস্তানে এখন আর রাজনৈতিক সমাধান দেখছেন না পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ৩১ আগস্ট মার্কিন সেনারা পুরোপুরি চলে যাওয়ার আগেই তালেবানদের দখলে এসেছে অনেক অঞ্চল। আফগান বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষটাও পেয়েছে নতুন মাত্রা। এরমধ্যে ১২ আগস্ট কিছুটা কূটনৈতিক সুরে বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে ইমরান খান বললেন, ‘তালেবান নেতাদের সঙ্গে আমার ৩-৪ মাস আগে কথা হয়েছে। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা একটি ব্যাপার পরিষ্কার করে দিয়েছে যে আশরাফ ঘানি যতদিন প্রেসিডেন্ট থাকবেন, ততদিন তারা আফগান সরকারের সঙ্গে কোনও আলাপে বসবে না।’
আফগান সরকার যেখানে দেশটির বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য ইসলামাবাদকেই দায়ী করে আসছে, সেখানে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সহসা কোনও সমাধানের পথ যে দেখাবে না, তাতে সন্দেহ নেই। এমনকি, সম্প্রতি আফগানিস্তানের নেটিজেনরাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
আফগান ‘জঞ্জাল’ সাফ করার দরকার হলেই পাকিস্তানকে দরকারি মনে করে যুক্তরাষ্ট্র : ইমরান খান
অন্যদিকে ইমরান খান আবার আমেরিকাকেও খুঁচিয়ে কথা বলতে ছাড়েননি। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানের ‘জঞ্জাল’ সাফ করার প্রশ্ন এলেই কেবল পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতকেই তাদের কৌশলগত পার্টনার বানিয়েছে। এ জন্য পাকিস্তানের প্রতি তাদের আচরণটাও বদলে গেছে। এসব কারণেও ইমরানের মতে আফগানিস্তানে এখন রাজনৈতিক সমাধান কঠিন হয়ে গেছে।
আপাতত আফগান পরিস্থিতি নিয়ে কাতারের দোহায় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করছেন। আপাতত আফগান বাহিনী ও তালেবানদের মধ্যে অস্ত্রবিরতি আনা যায় কিনা সেটা নিয়ে আলাপ করছেন তারা।
মার্কিন বাহিনীও যতটা পারছে আফগান বাহিনীর পক্ষে বিমান হামলা চালু রেখেছে। তবে ৩১ আগস্টের পর সেটা অব্যাহত থাকবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। আবার ইমরান খানও এটা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনীর পুরোপুরি বিদায়ের পর পাকিস্তানের মাটিতে তারা কোনও মার্কিন ঘাঁটি দেখতে চায় না।
সূত্র: ডন ও এনডিটিভি









