নিজেদের যোদ্ধাদের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিতে মেয়ে শিশুদের খোঁজ করছে আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। গোষ্ঠীটির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছে, নিজেদের দখলকৃত এলাকার স্থানীয় নেতাদের ১২ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে তালেবান। এই পদক্ষেপকে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন ফিরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
শরিয়া আইন অনুযায়ী পুরুষ সঙ্গী ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারে না নারীরা। বাধ্যতামূলক তাদের হিজাব পরতে হয়। এছাড়া নিজেদের দখলকৃত এলাকায় বহু স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে তালেবান। কেবল নারী শিক্ষক হলেই মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তালেবানের তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেউ আইন অমান্য করলে তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হবে।
এসব কারণে ভীত নারীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছেড়ে পালাচ্ছেন। এছাড়া অনেক বাবা আশঙ্কা করছেন, তালেবান যোদ্ধারা তাদের মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারে।
আফগানিস্তানের জাতীয় পুনর্গঠনের সর্বোচ্চ কাউন্সিলের সদস্য ফারকুন্দা জাহরা নাদেরি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটিতে বিদ্যমান নাগরিক অধিকার হারিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘এখন আমার সবচেয়ে বড় ভয় হলো নেতৃত্ব পর্যায়ে কাজ করা নারীদের তারা প্রান্তিক বানিয়ে ফেলবে। অথচ এসব নারী সবচেয়ে কঠোর নিপীড়কদের বিরুদ্ধে জোরালো স্বর তুলে থাকেন।’ তিনি বলেন, এসব নারীকে নির্মূল করে ফেলা হলে নারীদের পক্ষে কথা বলার এবং গত ২০ বছরের অর্জন রক্ষা করার কেউ থাকবে না।








