তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে চীন। সোমবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং এ ঘোষণা দিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
রবিবার রাতে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি দেশ ছেড়ে পালানোর পর সোমবার দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হুয়া চুনিং। এ সময় তিনি বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক’ সম্পর্ক আরও গভীর করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের সময় থেকেই বেইজিং তালেবানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। চীনের মতো একটি বৃহৎ শক্তির সমর্থন দলটির নেতাকর্মীদের কাবুল দখলে আরও উজ্জীবিত করে তোলে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের ৭৬ কিলোমিটারের সীমান্তও রয়েছে। দেশটিতে তালেবানের উত্থান নিয়ে বরাবরই অস্বস্তি ছিল বেইজিং-এর। তাদের আশঙ্কা ছিল, দলটি চীনের উইঘুর মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে পারে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে সফররত তালেবান প্রতিনিধিদের কাছে এ ব্যাপারে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে বেইজিং। সেখানে তালেবান প্রতিশ্রুতি দেয়, আফগানিস্তানের মাটি চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। জবাবে আফগানিস্তানের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা দেয় বেইজিং। একইসঙ্গে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
আফগান যুদ্ধের অবসান এবং দেশটির পুনর্গঠনে তালেবান তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দেশটির উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়াং অঞ্চলের ইস্ট তুর্কমেনিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টকে দমনে তালেবানের সহায়তা কামনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের প্রত্যাশা চীনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি এই দলটিকে আশ্রয় দেওয়ার বদলে তালেবান তাদের দমন করবে।









