আফগানিস্তানের পাঞ্জশির উপত্যকায় চূড়ান্ত লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। যে উপত্যকার কখনও তালেবানের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কাবুল দখলকারী গোষ্ঠীটি রবিবার রাতে কয়েকশ’ যোদ্ধা পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য। তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই অঞ্চলটি।
রাজধানী কাবুল থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাঞ্জশির। এখানে অবস্থান নিয়েছেন উৎখাত হওয়া সরকারের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মদি ও ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্টের আহমদ মাসুদ। তালেবানের কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন সালেহ।
পাঞ্জশির উপত্যকার ইতিহাস
‘পাঞ্জশির’ অর্থ হলো পাঁচ সিংহ। এই নামের সঙ্গে দশম শতাব্দীর একটি আখ্যানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, পাঁচ ভাই মিলে বন্যার পানিকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। গজনির সুলতান মাহমুদের তারা একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন।
উপত্যকার প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দা তাজিক জাতিগোষ্ঠীর। আর তালেবানের সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য পশতুন।
পাঞ্জশির প্রদেশেই জন্ম আমরুল্লাহ সালেহের এবং এখানেই তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
কখনও দখল হয়নি পাঞ্জশির
দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে প্রতিরোধ বাহিনী এই পাঞ্জশির উপত্যকায় নিজেদের ঘাঁটি করার জন্য বেছে নিয়েছে। ১৯৯০ দশকে প্রথম শাসনামলে তালেবানরা এটি দখল করতে পারেনি। কিংবা তারও এক দশক আগে সোভিয়েত ইউনিয়নও ব্যর্থ হয়েছে।
এর পেছনে পাঞ্জশির উপত্যকার ভূগৌলিক সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। হিন্দুকুশ পাহাড়ি এলাকায় এই উপত্যকায় যাওয়া যায় শুধু পাঞ্জশির নদীর পাশ দিয়ে থাকা সংকীর্ণ পথ দিয়ে। ফলে যে কোনও বাহিনীর আক্রমণ ঠেকিয়ে এটিকে রক্ষা সহজ।
অঞ্চলটি পান্নার জন্যও পরিচিত। অতীতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অর্থায়নে এই রত্ন কাজে লাগানো হয়েছে।
সোভিয়েত যাওয়ার পর কী হয়েছিল
সোভিয়েত বাহিনী চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানে একটি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, এতে জয়ী হয় তালেবান। কিন্তু সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদিন কমান্ডার আহমদ শাহ মাসুদ তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উপত্যকা তালেবানের দখলে যেতে দেননি। শুধু তাই নয়, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভূখণ্ড, চীন ও তাজিকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। ২০০১ সালে আল-কায়েদা জঙ্গিরা তাকে হত্যা করে।
নেতৃত্ব এখন ছেলের হাতে
আহমদ শাহের ছেলে আহমদ মাসুদ এখন তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সালেহ ও অঞ্চলটির অন্যান্য যোদ্ধারা।
সালেহ বলেছেন, তিনি কখনও আহমদ মাসুদের আত্মা ও উত্তরাধিকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। তাকে তিনি ‘নায়ক, কমান্ডার, কিংবদন্তি ও পথপ্রদর্শক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।









