পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর প্রধান ফয়েজ হামিদ কাবুল সফরে রয়েছেন। তার এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে তালেবান শাসকদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আফগানবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে ইসলামাবাদের পরিকল্পনা সফল করা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে।
খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের আইএসআইকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মনে করা হয়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র এই গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রেখেছে।
সূত্র জানায়, ফয়েজ হামিদের সফরের উদ্দেশ্য হলো কোয়েটা শুরার মোল্লা ইয়াকুব, মোল্লা আব্দুল গণি বারাদার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটানো।
সূত্র আরও জানায়, পাকিস্তান চায় হাক্কানি নেটওয়ার্কের হাতে সামরিক ক্ষমতা। কিন্তু এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন মোল্লা রেহবারি ও কুয়েটা শুরা।
খবরে বলা হয়েছে, আইএসআই প্রধানের কাবুল সফরে আফগানরা খুশি নয় কারণ এতে তালেবানের বৈধতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তালেবান নেতাদের সদর দফতর ছিল পাকিস্তানে এবং প্রায়ই আইএসআই-এর সরাসরি যোগাযোগ হতো। তবে তালেবানকে সামরিক সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি পাকিস্তান সব সময় অস্বীকার করে আসছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, আফগানিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে তালেবান নেতৃত্ব ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মধ্যে দরকষাকষি চলছে। সিএনএন-নিউজ১৮কে সূত্র জানায়, তালেবান ইরান মডেলে একটি সরকার গঠনের পরিকল্পনা করেছে। যেখানে সর্বোচ্চ নেতা হবেন রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রধান। প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বে থাকবেন তিনি।
মোল্লা ইয়াকুব ও হাক্কানি গোষ্ঠী দফায় দফায় বৈঠকে বসছে। যদিও তালেবান নেতৃত্ব বিশ্বের কাছে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হিসেবে হাজির করছে। ধারণা করা হচ্ছে, তালেবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা ইয়াকুব নতুন আফগান মন্ত্রিসভায় সামরিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত করতে চান। কিন্তু সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের রাখতে আগ্রহী।









