সেপ্টেম্বর মাসের শুরু হতে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের মুদ্রা কিয়াতের দরপতন হয়েছে ৬০ শতাংশ। মুদ্রার দরপতন ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখলকরা জান্তা সরকার। তাদের অধীনে মুদ্রার সবচেয়ে বড় দরপতন এটি। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বুধবার দেশটির অনেক স্বর্ণের দোকান ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। কিয়াতের দরপতন দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। অনেকেই সতর্কতার পাশাপাশি এটি কৌতুক করছেন।
মঙ্গলবার দেশটিতে ১ ডলারের দাম ছিল ২ হাজার ৭০০ কিয়াত। ১ সেপ্টেম্বর এটি ছিল ১ হাজার ৬৯৫ কিয়াত। ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের সময় এই মূল্য ছিল ১ হাজার ৩৯৫ কিয়াত।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হর্সে বলেন, এতে জেনারেলরা কিয়াতের দরপতনে উদ্বিগ্ন হবে। কারণ এটি অর্থনীতির একটি মাপকাঠি। যার প্রভাব তাদের ওপর পড়বে।
ডলার সংকট কিছু মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের জন্য এতই বিপর্যয় ঢেকে এনেছে তারা ব্যবসাই গুটিয়ে ফেলেছে।
সোমবার বিশ্বব্যাংক তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এই বছর মিয়ানমারের অর্থনীতির ১৮ শতাংশ স্ফীতি হতে পারে। দেশটিতে বাড়বে বেকারত্ব এবং দরিদ্রদের সংখ্যা।
মিয়ানমার ব্যাংকের এক নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তাই মুদ্রার দরপতনও স্বাভাবিক।
এই বিষয়ে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মন্তব্য জানা যায়নি। তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালের শেষের দিকে দেশটির রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৭.৬৮ বিলিয়ন ডলার। দরপতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। ১৩-২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৭৫৫ কিয়াত দরে ডলার কিনেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রভাব ছিল খুব সামান্য। মুদ্রার বাজার নিয়ে মানুষের মনে আস্থা নেই।









