আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল তালেবান। দলটি বলছে, তাদের নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং বিদেশে থাকা আফগান তহবিল জব্দ করে রাখা কেবল তাদের নয়, বরং পুরো দুনিয়ার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট প্রায় বিনা বাধায় কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। প্লেনভর্তি অর্থ নিয়ে পালিয়ে দেশ ছাড়েন পশ্চিমা সমর্থিত তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। প্রতিবেশী পাকিস্তান ছাড়াও চীন, রাশিয়ার মতো দেশগুলো আফগানিস্তানে দূতাবাস চালু রাখলেও কোনও দেশই এখন পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রে জমা থাকা আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশাল অঙ্কের তহবিল জব্দ করেছে বাইডেন প্রশাসন। একদিকে সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে জব্দ থাকায় দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় শনিবার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জবিউল্লাহ মুজাহিদ।
তালেবানের এই মুখপাত্র বলেন, ‘সরকারের স্বীকৃতি আফগান জনগণের অধিকার। কিন্তু এই স্বীকৃতি না দেওয়া যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আফগান সংকটও অব্যাহত থাকবে। এটি এই অঞ্চলের সংকট এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের জন্যও সমস্যায় পরিণত হতে পারে।’
২০০১ সাল থেকে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যুদ্ধের কথাও মনে করিয়ে দেন জবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, ওই সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, ওই যুদ্ধের নেপথ্যে যে কারণগুলো ছিল, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব ছিল। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেও যুদ্ধাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল।
এদিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও আগামী এক মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে ফের কূটনৈতিক মিশন চালু করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তালেবান সরকারের সঙ্গে সীমিত সম্পৃক্ততা আরও গভীর করতে চায় ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোট।
সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের অর্থ হলো ফের কাবুলে ফিরবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা। আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা দানের পাশাপাশি দেশটির কিছু নাগরিককে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করতে চায় ইইউ। এক্ষেত্রে তালেবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে।
ইইউ মনে করে, তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মানবাধিকার রক্ষা এবং দেশটিকে আবারও সন্ত্রাসবাদের রফতানিকারক হয়ে ওঠা থেকে নিবৃত্ত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তালেবানের কাছ থেকে একটি অঙ্গীকার আদায় এবং মানবিক সংকট প্রতিরোধে সহায়তার জন্য দেশটিতে তাদের একটি ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র নাবিলা মাসরালি অবশ্য জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, আফগানিস্তানে ন্যূনতম উপস্থিতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।









