যতদিন যাচ্ছে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ভারত ও চীন। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ এবারও শীতে দুই দেশের হাজার হাজার সৈনিক সীমান্তে ফরওয়ার্ড এরিয়ায় থাকবে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে। লাদাখে স্থানীয় কমান্ডারদের মধ্যে কথায় বরফ গলবে, এমন সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে এখন কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় কিছুটা কাজ হতে পারে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
পূর্ব লাদাখে গত বছরের এপ্রিল থেকে যে পরিস্থিতি, সেটা মেটার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। দুই দেশই পুরোদস্তুর প্রস্তুতি রাখছে নিজেদের তরফে। এর মধ্যে আছে প্রতিপক্ষকে বিশেষ বার্তা দেওয়ার জন্য সামরিক প্রস্তুতি, নজরদারি ও বিভিন্ন কসরত। চার সপ্তাহ আগের ব্যর্থ আলোচনার পরই এর গতি বেড়েছে।
২০২১ সালে দুই দফায় সীমান্ত থেকে সেনা কমিয়েছে উভয় দেশ। কিন্তু এখনও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার সেনা আছে উভয়ের। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ধাপে ধাপে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার নিকটবর্তী জমিতে নিজেদের দাবি সুদৃঢ় করছে চীন। সাবেক নর্দার্ন আর্মি কমান্ডার ডিএস হুডার মতে, সামরিক পর্যায়ে এই অচলাবস্থা কাটবে না। এতে বেসামরিক নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সেই সংক্রান্ত কথাবার্তায় উভয় দেশ কতটা ইচ্ছুক সেটা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ত্রয়োদশ দফার আলোচনায় ভারতের দেওয়া যাবতীয় প্রস্তাব খারিজ করে দেয় চীন। অন্যদিকে নিজেরাও কিছু ঠিকঠাক প্রস্তাব দিতে পারেনি লাল ফৌজ। তারপরই ওই এলাকায় ট্যাংকার নিয়ে অনুশীলন চালায় বেইজিং। এর জবাব দিতে গত সপ্তাহে পূর্ব লাদাখে বিমান কসরত করে ভারত।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শ বোর্ডের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত এলজি নরসিহ্মন মনে করেন যে, এখনও আলোচনার জায়গা আছে; যদি সীমান্তে শান্তি বজায় থাকে। ভারতীয় সেনাপ্রধান গত মাসেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চীনা লাল ফৌজ যদি ওখানে বসে থাকতে চায় তাহলে ভারতও বসে থাকবে। জায়গা ছেড়ে চলে যাবে না। ফলে অচলাবস্থা কাটার তেমন পরিস্থিতি নেই।
ভারতের সেনাপ্রধান নারাভানে বলেছেন, চীন ঠিক কী চায়, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে তারা যাতে কোনও জায়গা দখল না করতে পারে, সেই বিষয়ে সদা সচেষ্ট দিল্লি। শুধু লাদাখ নয়, অন্যদিকে অরুণাচল সীমান্তেও নিজেদের কারসাজি শুরু করেছে চীন। মার্কিন রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, তিব্বত ও অরুণাচলের মধ্যে তথাকথিত বিতর্কিত এলাকায় ১০০টি বাড়ি বানিয়ে গ্রাম নির্মাণ করেছে বেইজিং।
পরোক্ষভাবে ফরওয়ার্ড এরিয়ায় নির্মাণ করা গ্রামগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি। ইস্টার্ন আর্মি কমান্ডার মনোজ পাণ্ডে বলেছেন যে, তাদের প্রস্তুতি ও প্ল্যানিংয়ে এই গ্রামগুলোকে হিসাবে রাখা হচ্ছে।
পূর্ব সীমান্তে চোখে পড়ার মতো বেড়েছে লাল ফৌজের গতিবিধি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে সচেষ্ট থাকছে তারা। অন্যদিকে লাদাখে এখনও হট স্প্রিং ও ডেসপাঙ্গে সমস্যা রয়েছে। সেখানে আগের মতো রুট মার্চ করতে পারছে না ভারতীয় জওয়ানরা। সব মিলিয়ে চীনের সঙ্গে সমস্যা এখনও অব্যাহত রয়েছে, সমাধানের কোনও ইঙ্গিত মিলছে না। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।









