পাকিস্তানে পাবজি নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি অনলাইন গেমটিতে আসক্ত হয়ে পরিবারের সবাইকে গুলি করে হত্যা করে ১৪ বছরের এক কিশোর। ওই ঘটনার পর সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে গেমটি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি-র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।
এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ১৮ জানুয়ারি লাহোরের কানহা এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী নাহিদ মুবারক (৪৫), তার ছেলে তৈমুর (২২) এবং ১৭ ও ১১ বছরের দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ওই পরিবারে শুধু জীবিত ছিল নাহিদ মুবারকের কিশোর পুত্র আলী জেইন। পাবজি গেমে আসক্ত হয়ে মা ও ভাই-বোনদের খুন করার কথা স্বীকার করেছে ওই কিশোর। গেমটি তাকে সহিংসতার দিকে পরিচালিত করেছিল বলে জানিয়েছে সে।
দিনের অধিকাংশ সময় পাবজি খেলার ফলে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লাহোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান কিশওয়ার বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। তাই আমরা নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পাবজি গেম হলো একটি অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার ‘ব্যাটল রয়্যাল’ গেম যাতে বিজয়ী হয় শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকা ব্যক্তি। কিশওয়ার বলেন, ১৮ বছরের আলী জেইন তার ঘরে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতো এবং সে গেমে আসক্ত ছিল।
পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, আলী জেইন তার পরিবারের সদস্যদের ওপর গুলি চালিয়েছিল এই ভেবে যে, গেমের মতো করে তারাও আবার জীবিত হবে।’
গেমটির হিংসাত্মক বিষয়বস্তু সম্পর্কে অভিযোগ উঠার পর সাময়িকভাবে এটির অ্যাকসেস বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তানের টেলিকম কর্তৃপক্ষ।
ভারত ও চীনসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে গেমটি নিষিদ্ধ।









