পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দাবি করেছেন, পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা প্রস্তাব তার সরকার উৎখাতে বিদেশি অর্থায়নের ষড়যন্ত্র। তিনি দাবি করেন, বর্হিবিশ্বে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির প্রভাব ঠেকানো এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য।
রবিবার ইসলামাবাদে দলের শক্তি প্রদর্শনে বিশাল সমাবেশ আয়োজন করে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। পার্লামেন্টে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির আগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ বক্তব্যে ইমরান খান নিজের রাজনৈতিক আদর্শ, সরকারের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বর্হিবিশ্বে পররাষ্ট্র নীতির প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস ধরেই এই ষড়যন্ত্র নিয়ে আমরা জানি। কারা এসব মানুষকে (বিরোধী দলগুলোকে) একত্রিত করেছে তাও আমরা জানি, কিন্তু সময় বদলেছে। এটা জুলফিকার আলি ভুট্টোর যুগ নয়।’
ইমরান খান বলেন, ‘এটা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। কোনও কিছুই গোপন রাখা যায় না। আমরা কারও নির্দেশনা মেনে নেবো না। সকলের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব আছে কিন্তু আমরা নিজেদের কারও কাছে পেশ করবো না।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি অর্থায়নে পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের লোক ব্যবহৃত হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহার করছে। আমরা জানি আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা কোন জায়গা থেকে হচ্ছে। আমাদের লিখিতভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে কিন্তু জাতীয় স্বার্থ নিয়ে কোনও সমঝোতা করবো না।’
নিজের দাবির প্রমাণ হিসেবে একটি চিঠিও দেখান ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘জাতি জানতে চায় লন্ডনে বসে কে কার সঙ্গে বৈঠক করছে আর পাকিস্তানে থাকা চরিত্রগুলো কার নির্দেশনা অনুসরণ করছে? কাছে থাকা প্রমাণ দেখাচ্ছি। বিস্তারিত বলতে পারবো না কারণ আমাকে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। এমন কিছু বলতে পারবো না যাতে দেশের ক্ষতি হয়। এটা নিয়ে আপনাদের বলতে পারি। আমি কাউকে ভয় পাই না কিন্তু পাকিস্তানের স্বার্থের বিষয়ে আমি যত্নশীল।’
সূত্র: ডন









