১এমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুর। তদন্তের স্বার্থেই অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পুলিশের জালিয়াতবিরোধী ইউনিটের এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা অবৈধ তহবিলের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিগণিত হতে রাজি নই। এ কারণে বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত এগিয়ে নিতে আমরা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছি। সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি।
২০১৫ সালের জুলাই মাসে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)-এর খবরে প্রথম বহুল আলোচিত এ দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছিল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তহবিল ১এমডিবি প্রকল্প থেকে তার নিজের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭০ কোটি ডলার সরিয়ে নিয়েছেন।
বৈশ্বিক সম্পর্কোন্নয়ন ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে ১এমডিবি।
শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। তবে চলতি মাসে সৌদি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নির্বাচন জিততে নাজিব রাজাককে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার প্রদান করেছিল সৌদি আরব। মূলত দেশটিতে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব ঠেকাতেই তাকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
২০১৩ সালের নির্বাচনে জিততে নির্বাচনি প্রচারণার জন্য তাকে উপঢৌকন হিসেবে ওই অর্থ প্রদান করা হয়। তৎকালীন সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ অর্থ প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন করেছিলেন।
মালয়েশিয়ার সরকারবিরোধী জোটে রয়েছে দেশটির ইসলামপন্থী দল প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি (পিএএস)। এ দলটির উদ্যোক্তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত। দেশটিতে ব্রাদারহুডের চিন্তাভাবনার প্রতি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের সমর্থন রয়েছে।
যে নির্বাচনের জন্য সৌদি উপঢৌকন বা অনুদান নেওয়া হয়েছিল সে নির্বাচনে অবশ্য জয় পায় নাজিব রাজাকের দল। তবে নির্বাচনে ৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফলাফলের সম্মুখীন হয় দলটি।
এর আগে নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ওঠা ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মোহামেদ আপানদি জানিয়েছেন,সৌদি রাজপরিবার থেকে ব্যক্তিগত অনুদান হিসেবেই নাজিব রাজাকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে মোহামেদ আপানদি বলেন,সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই তাকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো উপঢৌকন বা ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়নি।
দুর্নীতিবিরোধী তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। তাই এ বিষয়ে নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও জানান দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল। সূত্র: বিবিসি, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
/এমপি/








