পাকিস্তানের পেশাওয়ারে পুলিশ লাইন্সের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণকারী পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এক সিনিয়র কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেছেন, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি)-এর এক সদস্য পুলিশের ছদ্মবেশ নিয়ে মসজিদে ঢুকে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার (৩০ জানুয়ারি) জোহরের নামাজের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুলিশ লাইন্সের মসজিদ। এতে ১০১ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য। ইতোমধ্যে বিস্তর তদন্ত শুরু হয়েছে শীর্ষপর্যায়ে। নিরাপত্তা বলায়ে ঘেরা পুলিশ লাইন্স এলাকায় কী করে আত্মঘাতী হামলাকারী বোমা নিয়ে প্রবেশ করলো। এই বিষয়টিও সামনে আসছে, হামলাকারীকে প্রবেশ করতে ওই এলাকা থেকে কেউ সহায়তা করেছিল কিনা।
খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের প্রধান মোয়াজ্জেম জাহ আনসারি বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারী সোমবার একটি স্কুটারে পুলিশের এক চেকপয়েন্টে হাজির হয়। এ সময় সে একজন কনস্টেবলের কাছে মসজিদ কোন দিকে তা জানতে চায়। পুলিশের পোশাক পরা থাকার কারণে তাকে প্রবেশ করতে দেন ওই কনস্টেবল।
আনসারি বলেন, এই সন্দেহভাজন একজন আত্মঘাতী হামলাকারী। আমরা তার গতিবিধি শনাক্ত করেছি। সে পুলিশের উর্দি পরা ছিল। প্রত্যেক নিহতের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
আনসারি এই তথ্য যখন জানালেন তখন পেশাওয়ারে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, আত্মঘাতী হামলাকারী ১২ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে আনসারি বলেছেন, একাধিক নিরাপত্তা চৌকি থাকার পরও হামলায় স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে পুলিশ লাইন্সে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার লোক আসা যাওয়া করে।
তিনি আরও বলেন, এদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা, সাধারণ অভিযোগকারী, কম্পাউন্ডের ভেতরে বসবাসকারী কর্মকর্তাদের পরিবার এবং আত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন।







