তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট তিন বছরের কারাদণ্ড স্থগিত করলেও আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের এক মামলায় তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানের বিরুদ্ধে তোশাখানা দুর্নীতি মামলার রায় স্থগিত করেছেন ইসলামাবাদ আদালত। সংক্ষিপ্ত রায়ে কর্তৃপক্ষকে পিটিআই প্রধানকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার আইনের একটি মামলার শুনানির জন্য সম্প্রতি গঠিত বিশেষ আদালত তাকে কারাগারে রাখার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। এই মামলার শুনানি বুধবার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। চিঠি অনুসারে, তাকে বিচারিক হেফাজতে রাখতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ইমরান খানের কাছে থাকা একটি কূটনৈতিক নথি হারিয়ে গেছে। পিটিআই দাবি করছে, এই নথিতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি রয়েছে। একই মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিকেও আসামি করা হয়েছে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী তানিয়া বাজাইয়ের মতে, এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে পিটিআই নেতার সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এই মামলাতেই তার পরিণতি নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেছেন, ইমরান খান রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার আইন ভঙ্গ করেছেন এবং নথিটি প্রকাশ্যে সমাবেশে দেখিয়েছেন। এটি রাষ্ট্রের প্রধান ও কূটনীতিকদের যোগাযোগের নথি।
তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় ৫ আগস্ট ইমরান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন ইসলামাবাদের বিচারক হুমায়ুন দিলাওয়ার। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়। আদালতের নির্দেশে লাহারের জামান পার্কের বাসভবন থেকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয় ইমরানকে। পরে তাকে আটক কারাগারে রাখা হয়। পাঁচ বছরের জন্য তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন।









