আসছে কঠিন শীতের মৌসুম। এর জন্য চাই গা গরম করার মতো প্রস্তুতি। কিন্তু পান্ডা বলে কথা। আলসের শিরোমণী। শরীরচর্চার ধারে কাছেও থাকে না সে। সারাদিন শুয়ে বসে খেয়ে দিব্যি কাটিয়ে দেয় দিন। কিন্তু এবার সেই আরাম জুটছে না চীনের শায়ানসি প্রদেশে সংরক্ষিত পরিবেশে থাকা বিশ্বের একমাত্র বাদামি পান্ডা ছি চাইয়ের কপালে।
শীতকালীন প্রস্তুতি হিসেবে চালিয়ে যেতে হচ্ছে ব্যায়াম। শায়ানসির একটি গবেষণা কেন্দ্রে চলছে এই প্রশিক্ষণ।
২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া ছি চাই এখন গুনে গুনে ১১০ কেজি। কালো-সাদা পান্ডার সঙ্গে তাদের রঙে মেলে না। বিরল জিনগত পরিবর্তনের কারণেই এরা কিছু বাদামি।
কর্মীরা বাঁশের এক প্রান্তে গাজরসহ পান্ডার পছন্দের খাবার ঢুকিয়ে দেন। এরপর পান্ডাকে পেছনের পায়ে দাঁড়িয়ে খাবারের দিকে এগোতে উৎসাহ দেওয়া হয়। ছিনলিং জায়ান্ট পান্ডা গবেষণা কেন্দ্রে এটিই শীতকালীন ব্যায়ামের অংশ।
প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়। দিনে দুইবার, সকাল ও দুপুরের খাবারের প্রায় এক ঘণ্টা পর এটি করা হয়। প্রতিটি সেশন চলে পাঁচ থেকে দশ মিনিট।
ছিনলিং জায়ান্ট পান্ডা গবেষণা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়নকারী সুয়ে ওয়াংলি জানালেন, ‘তিন বছর পূর্ণ হলে সাধারণত পান্ডারা এই ব্যায়ামে অংশ নেয়। পুরুষ ও স্ত্রী—সবাই অংশ নেয়। মূল লক্ষ্য পেছনের পা শক্ত করা।’
শীতকালীন প্রশিক্ষণে সব পান্ডা ছি চাইয়ের মতো দীর্ঘ সময় দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। চার বছর বয়সী ছি এবং তিন বছর বয়সী রং রং ও শু বাও এখন শুধু দাঁড়াতে পারে, হাঁটার মতো শক্তি এখনও হয়নি ওদের।
সুয়ে ওয়াংলি আরও জানালেন, প্রতিটি পান্ডার শরীরের অবস্থা ও প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আমরা আলাদা পরিকল্পনা করি। যারা সোজা হয়ে হাঁটতে পারে, তাদের সময় একটু বেশি দিই। যারা নতুন, তাদের শুধু দাঁড়িয়ে থাকার অনুশীলন করাই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশিক্ষণ পুরো শরীর সচল রাখে এবং পেছনের পা শক্ত করে। ওই পা পান্ডার দৈনন্দিন কাজ—যেমন গাছে ওঠা, হাঁটা ও প্রজননের জন্য জরুরি।
সাধারণত চার থেকে ছয় বছর বয়সে পান্ডারা প্রজননের উপযোগী হয়। তিন বছরের বেশি বয়সী পান্ডাদের জন্য শীতকালীন ব্যায়াম তাদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সূত্র: সিএমজি








