নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা উড়িয়ে দিলেন মিয়ানমার জান্তা প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৬আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৬

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেই সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে জান্তা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল বড় জয়ের পথে থাকলেও এই প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে সব সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেয়ে জনগণের ভোটই তাদের কাছে বড় স্বীকৃতি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রবিবার ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ প্রায় ৬০টি টাউনশিপে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দুই ধাপের ভোটে জান্তাপন্থি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিম্নকক্ষে ২০৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি এবং উচ্চকক্ষে ৭৮টি আসনের মধ্যে ৫২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫৫ শতাংশ। ২০১৫ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে যেখানে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছিলেন, সেখানে এবার উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। প্রধান বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর এই নির্বাচনের আয়োজন করল সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং যুক্তরাজ্য এই নির্বাচনকে সামরিক জান্তার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার একটি সাজানো নাটক বা ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্য হয়েও মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তারা এই নির্বাচনের ফলাফলকে সমর্থন করবে না।

জবাবে রবিবার মান্দালয়ে একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে মিন অং হ্লাইং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি স্বীকার করল কি করল না, সেটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের প্রয়োজন জনগণের স্বীকৃতি।

নির্বাচনকে জান্তা সফল হিসেবে দাবি করলেও রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে এক ভয়াবহ আতঙ্ক কাজ করছে। গ্রেফতারের ভয় এবং সামরিক বাহিনীর প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ভোট দিতে বাধ্য হয়েছেন। সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যেখানে থাকেন, সেখানে ভোটারের উপস্থিতি বেশি থাকলেও অন্যান্য এলাকায় তা ছিল সামান্য।

নির্বাচনি প্রচার চলাকালীন সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা ও সংঘাত অব্যাহত ছিল। জান্তার এই নতুন নির্বাচনি সুরক্ষা আইনের আওতায় এ পর্যন্ত চার শতাধিক ব্যক্তিকে নির্বাচনের সমালোচনা বা বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

৬৯ বছর বয়সী জেনারেল মিন অং হ্লাইং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদ ছেড়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক ভূমিকায় আসতে পারেন। তবে পরবর্তী সরকারে তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে তিনি বলেন, পার্লামেন্ট অধিবেশন বসার পর তারাই পদ্ধতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

/এএ/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী