হংকংয়ের প্রখ্যাত গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও গণতন্ত্রপন্থী ব্যক্তিত্ব জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি হংকং আদালত। বেইজিং প্রণীত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় দেওয়া এই রায়কে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো “নির্মম ও গভীরভাবে অন্যায়” বলে আখ্যা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার ঘোষিত এই রায়ের মধ্য দিয়ে হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের সবচেয়ে আলোচিত ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অবসান হলো। বন্ধ হয়ে যাওয়া জনপ্রিয় পত্রিকা অ্যাপল ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাইকে ২০২০ সালের আগস্টে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত বছরের শেষ দিকে তাকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের দুটি অভিযোগ এবং রাষ্ট্রদ্রোহী প্রকাশনার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আদালত জানিয়েছে, লাইয়ের অপরাধগুলো ‘গুরুতর প্রকৃতির’ হওয়ায় তার শাস্তি ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবনের যে সর্বোচ্চ মাত্রার মধ্যে পড়ে, তার কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়, বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের ষড়যন্ত্রে লাই ছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী ও চালিকাশক্তি—এ বিষয়টি শাস্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
৭৮ বছর বয়সী জিমি লাই, যিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকও, আদালতে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরিবার ও আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সাজা কার্যত তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখে ঠেলে দিতে পারে। লাই হৃদস্পন্দনের সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে জানানো হয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিজমের প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ বলেন, হংকংয়ে আইনের শাসন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে এবং এটি দেশটির সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কফিনে শেষ পেরেক। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন এই সাজাকে “নিষ্ঠুর ও গভীরভাবে অন্যায়” বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে ২০২০ সালে বেইজিংয়ের আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় লাই ছিলেন প্রথম সারির গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন। পুলিশি অভিযান, সম্পদ জব্দ ও মামলার চাপে ২০২১ সালের জুনে অ্যাপল ডেইলি বন্ধ হয়ে যায়। শেষ সংখ্যাটি এক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। এই রায়কে কেন্দ্র করে হংকংয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।









