দিনে খরচ করতেন ২০০ টাকা, অসুস্থ শিশুদের জন্য ৭ কোটি রেখে গেলেন নিঃসন্তান দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫

নিজেদের কোনও সন্তান ছিল না। জরাজীর্ণ বাড়ি আর ভাঙা আসবাবপত্রে চরম সাধারণ জীবনযাপন করতেন। দৈনিক দুবেলার খাবারের জন্য খরচ করতেন মাত্র ১৭ ইউয়ান (প্রায় ২৩৮ টাকা)। অথচ মৃত্যুর পর এই দম্পতি জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য দান করে গেছেন ৫০ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ৭ কোটি টাকা। গত মাসে সাংহাইয়ের এক প্রদর্শনীতে চ্যারিটি কর্মকর্তারা জানান, এই অর্থ দিয়ে ৪৫৫ জন অসুস্থ শিশুর চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।

বিস্ময়কর ও অনুপ্রেরণামূলক এই ঘটনাটি চীনের সাংহাইয়ের। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে জানা যায়, শিক্ষক দু ইংরং ও চিকিৎসক লু সুয়িং নামের এই দম্পতি সাংহাইয়ের একটি কলেজ থেকে অবসর নেন। ২০১৮ সালে ৮১ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দু ইংরং এবং তার স্ত্রী লু সুয়িং গত বছর ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

২০১৮ সালের শুরুতে সাংহাই ইয়োদা কার্ডিওথোরাসিক হাসপাতালের সামনে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সহায়তার একটি পোস্টার দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ ইউয়ান (৭০ লাখ টাকা) দান করেন এই দম্পতি। এর কিছুদিন পর বাকি ৪৫ লাখ ইউয়ানও (৬.৩ কোটি টাকা) দান করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

হাসপাতালের চ্যারিটি প্রকল্পের এক কর্মী তাদের জরাজীর্ণ বাড়ি দেখে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু টাকা রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তখন দু ইংরং বলেছিলেন, আমাদের দুজনেরই আর বেশি সময় বাকি নেই। আমরা পেনশন পাই, জমানো কিছু টাকাও আছে। আমাদের এত টাকার প্রয়োজন নেই।

নিঃসন্তান এই দম্পতি সাংহাই ওভারসিজ চাইনিজ ফাউন্ডেশনকে তাদের আইনি অভিভাবক নিয়োগ করেছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর ফাউন্ডেশনের কর্মীরা দেখতে পান, দম্পতিটি ছেঁড়াখোঁড়া আসবাবপত্র ও মেরামত করা চশমা ব্যবহার করতেন এবং ডায়েরিতে হিসাব করে খরচ লিখতেন। অথচ শিক্ষা ও ভূমিকম্পের মতো চীনের নানা দুর্যোগে তারা আজীবন উদারহস্তে দান করে গেছেন।

তাদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী গত এপ্রিলে সাগরে তাদের মরদেহ ভস্মাবশেষ বিসর্জন দেওয়া হয়। ফাউন্ডেশন জানায়, তাদের রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো সেই ৪৫৫টি শিশু, যাদের জীবন বদলে গেছে এই দম্পতির ভালোবাসায়।

সূত্র: এনডিটিভি

/এএ/
সম্পর্কিত
ইরানের তেল বিক্রির ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
খামেনির শেষ বিদায়ের মাঝেই ইরানে মার্কিন সিরিজ বিমান হামলা
গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত, ডেনমার্কের নয়: ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
ইরানের তেল বিক্রির ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের তেল বিক্রির ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড়ধসের শঙ্কা
টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড়ধসের শঙ্কা
শিশু বেছে বেছে খায়? জিদ ভেবে করছেন যে ভুল
শিশু বেছে বেছে খায়? জিদ ভেবে করছেন যে ভুল
খামেনির শেষ বিদায়ের মাঝেই ইরানে মার্কিন সিরিজ বিমান হামলা
খামেনির শেষ বিদায়ের মাঝেই ইরানে মার্কিন সিরিজ বিমান হামলা
সর্বাধিক পঠিত
‘আপনি জানেন না আমি কে’, এমবাপ্পেকে হুঁশিয়ারি প্যারাগুয়ের সিনেটরের
‘আপনি জানেন না আমি কে’, এমবাপ্পেকে হুঁশিয়ারি প্যারাগুয়ের সিনেটরের
ধানক্ষেত-জঙ্গল পেরিয়ে যা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
ধানক্ষেত-জঙ্গল পেরিয়ে যা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
৩২ কোটি ডলার ঘুষ নেওয়া সাবেক চীনা কর্মকর্তার বিরল মৃত্যুদণ্ড
৩২ কোটি ডলার ঘুষ নেওয়া সাবেক চীনা কর্মকর্তার বিরল মৃত্যুদণ্ড
গুলিতে নিহত ৩ জনের লাশ নিতে আসেনি কেউ, পড়ে আছে হাসপাতালে
গুলিতে নিহত ৩ জনের লাশ নিতে আসেনি কেউ, পড়ে আছে হাসপাতালে
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কোন কোন দল মুখোমুখি
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কোন কোন দল মুখোমুখি