ডায়েরির পাতায় লেখা শুধু একটি শব্দ। আর সেই একটি শব্দের সূত্র ধরেই ভারতের উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলায় সন্ধান মিললো ১০ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন প্রবীণ ব্যক্তির। এরপর ঘটলো পরিবারের সঙ্গে তার কাঙ্ক্ষিত পুনর্মিলন।
নিখোঁজ হওয়া এই ব্যক্তির নাম শ্যাম সিং। তিনি মূলত উত্তর প্রদেশের ফারুকাবাদের বাসিন্দা। মানসিক অসুস্থতার কারণে ১০ বছর আগে নিজের বাড়ি থেকে হারিয়ে যান তিনি। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। গত এক দশক ধরে তিনি আলমোড়ার তাডীখেত ও মাঝখালি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তার মুখ চিনলেও আসল পরিচয় কারও জানা ছিল না।
মাঝখালি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনোদ ফার্তিয়াল বিগত কয়েক বছর ধরে এই বৃদ্ধকে জরাজীর্ণ অবস্থায় এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখতেন। দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে জীবনযাপন এবং শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতির কারণে তার পরিচয় জানা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি কোথা থেকে এসেছেন কিংবা কতদিন ধরে সেখানে আছেন, সে বিষয়ে পুলিশ বারবার জানার চেষ্টা করলেও তিনি কিছুই বলতে পারতেন না। একপর্যায়ে কোনও বড় সাফল্যের আশা না করেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার হাতে একটি কলম ও ডায়েরি তুলে দেওয়া হয়।
ডায়েরি হাতে পাওয়ার পর প্রথমে চুপ থাকলেও হঠাৎ একটি শব্দ লেখেন শ্যাম সিং, ‘রাজেপুর’।
এই একটি শব্দই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শব্দটির দেখা পেয়েই আলমোড়া পুলিশ অবিলম্বে ফারুকাবাদের রাজেপুর থানায় যোগাযোগ করে এবং শ্যাম সিংয়ের ছবি পাঠায়। ছবি দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনি ফারুকাবাদের রাজেপুর রাঠৌড়ী গ্রামের বাসিন্দা। দ্রুতই তার পরিবারের সন্ধান মেলে। উত্তরাখণ্ড পুলিশের ফোন পেয়ে দীর্ঘ ১০ বছরের নিখোঁজ সংবাদের অবসান ঘটে শ্যাম সিংয়ের পরিবারের।
খবর পেয়েই শ্যাম সিংয়ের স্বজনেরা দ্রুত আলমোড়ার মাঝখালি পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছান। দীর্ঘ এক দশক পর বাবাকে সহি-সালামত দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সংবেদনশীল মনোভাব ও আন্তরিক চেষ্টার জন্য আলমোড়া তথা উত্তরাখণ্ড পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও প্রশংসা জানান তারা।
সূত্র: এনডিটিভি

হরমুজের কাছে দুই জাহাজের সংঘর্ষের বিরোধ মেটালো চীনা আদালত
রাশিয়ার তাতারস্তানে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত ১৩






