ভারতের মুম্বাইয়ের কুরলা-ট্রম্বে মালবাহী রেললাইনের সংলগ্ন কুরেশি নগর বস্তির কনে ফারহিন শেখের দু-তলা ছোট বাড়িটিতে তখন আনন্দের আমেজ। গায়েহলুদের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে রাত একটায়। উত্তর প্রদেশ থেকে আসা আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের ১৫ জন সদস্য দুই তলায় কোনোমতে রাতে ঘুমাতে গেছেন। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো না বেশি সময়।
রাত ঠিক ২টা ১৫ মিনিটে বিকট শব্দে কেঁপে উঠলো পুরো এলাকা। বস্তির পেছনের একটি জরাজীর্ণ ভবন ভাঙার জন্য বসানো ১৭ তলা সমান উঁচু এক বিশালাকার ক্রেন কাত হয়ে সোজাসুজি ভেঙে পড়লো কনের বাড়ির ওপর। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হন এবং চারটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্রেনের বিমটি রেললাইনের ওপরের বিদ্যুতের তারও ছিঁড়ে ফেলে।
ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে ১৯ বছর বয়সী কনে ফারহিন শেখ বলেন, বিকট শব্দ আর ওপর থেকে জিনিসপত্র গায়ের ওপর পড়তে থাকায় আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আর কোনও উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমাদের ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিতে হয়েছে।
লাফিয়ে বের হওয়ার পর শুরু হয় তুমুল বিশৃঙ্খলা। মানুষ একে অপরকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন, আবার কেউ কেউ ছিঁড়ে পড়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের তার থেকে সবাইকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কনের হবু শাশুড়িও আহত হয়েছেন।
পাশের ঘরের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী রাজু শঙ্কর গৌড় ঘুমিয়ে ছিলেন দোতলায়। তিনি বলেন, গায়ের ওপর কিছু একটা পড়ার পর ঘুম ভেঙে দেখি ক্রেনের বিশালাকার বিমটি আমার মুখের মাত্র দু-ফুট সামনে ঝুলছে!
নিচে তার স্ত্রী আরতি আঁধারে সন্তানদের খুঁজতে থাকেন। তিনি ভেবেছিলেন সন্তানরা হয়তো আর বেঁচে নেই। আহতদের মধ্যে মাথায় আঘাত পাওয়া মুস্তাক কুরেশি (৫৭) ও নাসরিন কুরেশিকে (৬২) সেলাইয়ের জন্য স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মুম্বাই মেট্রোপলিটন রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমএমআরডিএ)-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেছনের ভবনের কাজ করার সময় মাটি নরম থাকায় স্থায়িত্ব হারিয়ে ক্রেনটি পাশে থাকা ঘরগুলোর ওপর হেলে পড়ে। পরদিন সকালে গায়েহলুদের হলুদ মাখা হাতেই ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোকে তাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে জিনিসপত্র উদ্ধারের করুণ চেষ্টা করতে দেখা যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দিল্লিতে পাকিস্তানি মিশনের ব্যারিকেড উচ্ছেদ নিয়ে যা বললো ভারত
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে পাঁচ নারীসহ ৮ প্রার্থী
যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়া চীনের এআই ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারা







