ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার পর শহরের ভবন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত তিন বছরে দিল্লিতে ভবন ধস-সংক্রান্ত ১ হাজার ১৩৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আবাসনের বাড়তি চাপ এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি। ধসের সময় ভবনটির ভেতরে কতজন ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। স্থানীয় গণমাধ্যমকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে ২০ থেকে ৪০ জনের মতো মানুষ ছিলেন।
সোমবার সকালে কর্মকর্তারা জানান, ভবনটির প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে। শুধু বেসমেন্টের ধ্বংসাবশেষ বাকি রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের সদস্যরা বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে লোহার গ্রিল কেটে ইট, স্টিল ও কংক্রিটের স্তর সরাচ্ছেন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অনুমোদনহীন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন
ভবন ধসের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির কোনও অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনা ছিল না। বেসমেন্টের নির্মাণও ছিল অনুমোদনহীন।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বিধিমালা অনুযায়ী ভবনটির পঞ্চম তলার অনুমোদন ছিল না। ভবনটির বিরুদ্ধে এর আগে কোনও বুকিং বা সিলগালা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল-এমন কোনও রেকর্ডও প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ভবনটিতে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছিল না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, ৯ মিটারের বেশি উচ্চতার এবং ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বসবাস করে-এমন পিজি ভবনের জন্য ফায়ার এনওসি প্রয়োজন।
তিন বছরে ১১৩৩ ভবন ধসের ঘটনা
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে শহরে ভবন ধস-সংক্রান্ত ৩৪৯টি ঘটনা ঘটে। এতে ৪৩ জন নিহত ও ৩১৫ জন আহত হন।
২০২৩ সালে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭১টিতে। ওই বছর ২৩ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ঘটনা আরও বেড়ে ৪১৩টিতে পৌঁছায়। এতে ৩২ জন নিহত হন।
অর্থাৎ ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভবন ধস-সংক্রান্ত ঘটনা প্রতিবছরই বেড়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান দিল্লি ফায়ার সার্ভিসে রিপোর্ট হওয়া কল বা ঘটনা। এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই আরও ২৩৩টি ভবন ধস-সংক্রান্ত কল এসেছে। এতে ১৭ জন নিহত ও ১০১ জন আহত হয়েছেন।
ঘনবসতিতে বাড়ছে ভবনের ওপর চাপ
দিল্লির ভবন নিরাপত্তার বিষয়টি শহরের সীমিত জায়গার ওপর বাড়তে থাকা চাপের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪১ এবং পরিবার ছিল ৩৩ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৮টি। ১ হাজার ৪৮৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এই জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১ হাজার ৩২০ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকাগুলোতে এই ঘনত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সত্য নিকেতনের মতো এলাকায় শিক্ষার্থীদের চাহিদা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আবাসিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে পিজি, বেসরকারি হোস্টেল ও বেশি সংখ্যক বাসিন্দার আবাসন গড়ে উঠেছে।
একসময় স্বল্প উচ্চতার পুনর্বাসন কলোনি হিসেবে গড়ে ওঠা সত্য নিকেতন এখন ঘনবসতিপূর্ণ শিক্ষার্থী এলাকায় পরিণত হয়েছে। এখানে বহুতল ভবন, পিজি, ভাড়া বাসা, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
ফলে যেসব ভবন শুরুতে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছিল, সেগুলোর ওপর এখন বাসিন্দার সংখ্যা ও ব্যবহারের বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইয়েমেনের হামলা
হ্যারি-মেগানের নতুন পরিচয় কী, জানালেন রাজা চার্লস







