চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন পঞ্চম প্লেনাম সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। আগামী বছরের একবিংশ পার্টি কংগ্রেসের আগে সবচেয়ে বড় এই বৈঠকে শি জিনপিংয়ের এক দশক পুরোনো দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক আনুগত্য প্রাধান্য পাচ্ছে। গত বছর দেশটির শৃঙ্খলা রক্ষা কর্তৃপক্ষ ১০০ জনের বেশি মন্ত্রী ও প্রাদেশিক পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ ১০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির তিন শতাধিক সদস্যকে নিয়ে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য দলের পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর স্বশাসন জোরদার করা। চীনা পরিভাষায় এটি মূলত দলের শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং দুর্নীতি দমনের প্রতিশব্দ। আগামী বছরের পার্টি কংগ্রেসে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হবে এবং শি জিনপিং চতুর্থ মেয়াদে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এর আগেই দলের শীর্ষ পর্যায়ে নিজের কর্তৃত্ব ও আনুগত্য পুনর্প্রতিষ্ঠা করছেন তিনি।
লন্ডনের কিংস কলেজের লাউ চায়না ইনস্টিটিউটের পরিচালক কেরি ব্রাউন জানান, শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকা একই সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, আপনি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তবে আপনি রাজনৈতিকভাবে অনুগত নন। আর যদি অনুগত হন, তবে আপনি দুর্নীতিগ্রস্ত নন।
ব্রাউনের মতে, সিসিপি ব্যবস্থায় দুর্নীতি কেবল বস্তুগত বিষয় নয়, রাজনৈতিক অনানুগত্যকেও আধ্যাত্মিক দুর্নীতি হিসেবে দেখা হয়।
এশিয়া সোসাইটি থিঙ্কট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো নিল থমাস বলেন, শি পার্টিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত করেছেন এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছেন। কিন্তু তিনি জানেন যে কঠোর শাস্তি কর্মকর্তাদের নিজস্ব স্বার্থকে পার্টির স্বার্থের ওপরে রাখার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না।
থমাসের মতে, দুর্নীতি দমনকে সরকার পরিচালনায় একটি স্থায়ী পদ্ধতি বানিয়েছেন শি, যা শেষ করার কোনও সুযোগ নেই।
পার্টিতে শৃঙ্খলা না ফেরাতে পারলে একসময় এটি তার শাসনক্ষমতা হারাতে পারে এবং ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যেতে পারে বলে পূর্বেও সতর্ক করেছিলেন শি জিনপিং। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, এটি কোনোভাবেই অতিরঞ্জন নয়।
সম্প্রতি চীনের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশাসকদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। গত জানুয়ারিতে সামরিক কাঠামোর দ্বিতীয় প্রভাবশালী নেতা জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং গত মাসে তাকে দল ও সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি) থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই অভিযানের ফলে সাধারণ সময়ে সাত সদস্যের সিএমসি এখন মাত্র দুই সদস্যে (শি জিনপিং এবং সিএমসির শৃঙ্খলা প্রধান ঝাং শেংমিন) নেমে এসেছে। এছাড়া শিনজিয়াংয়ের সাবেক পার্টি প্রধান মা জিংরুই এবং রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি পেরিয়ে টিকে থাকা চংকিংয়ের সাবেক মেয়র হুয়াং কিফানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই গণছাঁটাই চীনের শীর্ষ নেতৃত্বে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, শি জিনপিং এটিকে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন এবং ঐক্য নিশ্চিত করার স্বাভাবিক মাধ্যম হিসেবেই দেখছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার চেষ্টা নেতানিয়াহুর, সায় দেননি ট্রাম্প
তেহরানে বৈঠকে বসছে মক্কা প্যাক্ট ও ইরান
দুই বাংলাদেশির ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সৌদির জেলে পশ্চিমবঙ্গের যুবক, দাবি পরিবারের