১৯৮৯ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে তিয়ানমেন স্কয়ারে হওয়া আন্দোলনের বিরুদ্ধে করা সরকারি হামলায় নিহত কত জন হয়েছিলেন সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় যুক্তরাষ্ট্রের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছে চীন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তারা বলেছে, চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেন কথা না বলে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রর জানা তথ্য ভুল এবং তাদের তা সংশোধন করা উচিত। চীন তিয়ানমেন আন্দোলনকে ‘প্রতিবিপ্লব’ হিসেবে দেখে। বার্তাসংস্থা এএফপি লিখেছে, চীনের কোথাও প্রকাশ্যে তিয়ানমেন স্কায়ারের আন্দোলন এবং সংঘটিত সহিংসতার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা যায় না। শুধুমাত্র হংকংয়ে পরিস্থিতি আলাদা। সেখানে প্রতি বছর ৪ জুন দিবসটিকে স্মরণ করা হয়। ১৯৮৯ সালের ওই দিনে তিয়ানমেন স্কয়ারে শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ফাঁস হওয়া যুক্তরাজ্যের দূতাবাসের একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক আইন জারি করে আন্দোলন দমনের সময় প্রায় ১০ হাজার আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বেইজিংয়ের তিয়ানমেন স্কয়ারের আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো সহিংসতায় কত জন নিহত হয়েছেন সে সংখ্যা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রতি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রও ওই ঘটনায় কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে আর কতজন নিখোঁজ রয়েছে সে বিষয়ে জানতে চায়। তিনি নোবেলজয়ী চীনা রাজবন্দী লিউ জিয়াবোর উদ্ধৃতি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘৪ঠা জুনের আত্মারা এখনও শান্ত হয়নি।’ জিয়াবো কারাবন্দী থাকা অবস্থাতেই ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তিয়ানানামেন আন্দোলনের কারণে যাদেরকে গ্রেফতার করে জেলে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি দেওয়া ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের হয়রানি না করার আহ্বানও জানিয়েছেন পম্পেও।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর চীন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুইনিং সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ওই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়ে চীন সরকার নিশ্চিত উপসংহারে পৌঁছেছে। চীন ওই বক্তব্যের বিষয়ে তীব্রভাবে অসন্তুষ্ট এবং এর বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’ তার দৃষ্টিতে পম্পেওর বক্তব্য, ‘চীন সরকারের বিরুদ্ধে আনা ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল। যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ব ধারণাপ্রসূত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকে এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীন এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি লিখেছে, সম্প্রতি তিয়ানমেন স্কয়ার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। সেখানে তারা ১৯৮৯ সালে হওয়া রক্তপাত এবং তাদের নিপীড়িত হওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চীন সরকারের কাছে ৪ জুনের স্বীকৃতি প্রত্যাশা করেন।








