চীনে সার্চ সেবা চালু করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল দেশটির সেন্সরশিপ আইন মেনে নিয়ে নতুন অ্যাপ বানাচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে অ্যাপটি তৈরি করা হচ্ছে। অ্যাপ থেকে কোন কিছু খুঁজতে গুগলের সার্চ সেবা ব্যবহার করলে মানবাধিকার ও ধর্ম সংক্রান্ত তথ্য দেখানো হবে না। বাদ পড়বে অনেক ওয়েবসাইট যেগুলো চীনের সরকার নিষিদ্ধ করেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বাক স্বাধীনতা না থাকার অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে গুগল চীন থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সিইও সুন্দর পিচাই চীনের বাজার গুগলের দখলে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন।
গুগল সার্চ ইঞ্জিনের যে নতুন অ্যাপ চীনে চালু করতে যাচ্ছে তার সাংকেতিক নাম ড্রাগনফ্লাই। সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট জানিয়েছে, গুগলের অভ্যন্তরীণ নথিতে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের মাওতাই ও লংফে নামের দুইটি সংস্করণ তৈরির উল্লেখ দেখা গেছে। চীনা সরকারের অনুমোদন পেলে তা ব্যবহারকারীদের জন্য অবমুক্ত করা হবে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং এএফপিও ভিন্ন ভিন্ন সূত্র থেকে এ খবরের সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।
সার্চের অ্যাপটি থেকে কোনও কিছু খুঁজলে চীন সরকারের নিষিদ্ধ করা ওয়েবসাইটগুলোর ফলাফল দেখানো হবে না। সেখানে তথ্য দেওয়া হবে, ‘সংবিধিবদ্ধ কারণে কিছু ফলাফল বাদ দেওয়া হয়েছে।’ ইন্টারসেপ্ট জানিয়েছে, উইকিপেডিয়া ও বিবিসির মতো ওয়েবসাইট ওই সার্চ অ্যাপে নিষিদ্ধ থাকবে। চীন সরকার এ রকম একটি উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা স্বীকার করলেও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম সিকিউরিটিস ডেইলি লিখেছে, এমন কোনও অ্যাপ এখনও চীন সরকারের অনুমোদন পায়নি।
গুগলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীনে আমাদের বেশ কয়েকটি অ্যাপ চালু রয়েছে। যেমন গুগল ট্রান্সলেট এবং ফাইলস গো। চীনের ডেভেলপারদেরও আমরা সহায়তা করি। চীনা প্রতিষ্ঠান জেডি ডট কমে আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। কিন্তু আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে করা কোনও অনুমান নিয়ে মন্তব্য করি না।’
চীনের বাজার ধরতে সেন্সেরশিপ মেনে নিয়ে সার্চ অ্যাপ বানানোর এই সিদ্ধান্তে গুগলের ভেতরেই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন গুগল কর্মী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওই প্রকল্পে যাতে কাজ করতে না হয় সেজন্য তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট টিম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আরেকজন সূত্র এএফপিকে বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই এ নিয়ে অনেকে ক্ষুব্ধ। আমরা যা করছি তা নিয়ে বহু লোকই অসন্তুষ্ট।’
মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ‘গুগলের উচিত না এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া। সংস্থাটির চীন বিষয়ক এক জন গবেষক প্যাট্রিক মুন বলেছেন, ‘বাজার ধরতে গুগল যদি চীনের চরম সেন্সরশিপ মেনে নেয় তাহলে তা ইন্টারনেট স্বাধীনতার জন্য এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে।’
বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের দিক দিয়ে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার। আর গুগল চায় সেই বাজারের দখল নিতে। চীনে বর্তমানে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন এবং ভিডিও দেখার ওয়েবসাইট ইউটিউব বন্ধ। তারপরও দেশটিতে চীনের ৭০০ কর্মকর্তা ও তিনটি অফিস রয়েছে। চীনের আইন মেনে নতুন সেবা বাস্তবায়নের জন্য সেখানে কার্যক্রম চালু রেখেছে গুগল। চীন সরকার সর্বশেষ তাদের অনুবাদ করার অ্যাপটি অনুমোদন দিয়েছে।
চীন সরকার বর্তমানে ফেসবুক, টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের মতো ওয়েবসাইট বন্ধ করে রেখেছে। দেশটিতে রাজনৈতিক বিরোধী মত ও তিয়ানমেন স্কয়ার প্রসঙ্গে কোনও কথা বলা নিষিদ্ধ।








