আফ্রিকার জন্য চীনের নতুন ঋণ, ফাঁদ তৈরির অভিযোগ অস্বীকার

বিদেশ ডেস্ক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৫আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৮
image

আফ্রিকাতে আরও ছয় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, আফ্রিকার যেসব প্রকল্পে চীন বিনিয়োগ করবে সেসব প্রকল্প যে শুধু মানুষের কাজে লাগবে তা-ই নয়, প্রকল্পগুলো পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখেই বানানো হবে এবং সেগুলো হবে টেকসই। রয়টার্স জানিয়েছে,  সোমবার চীনের ‘গ্রেট হল অব পিপলে’ আফ্রিকার দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শি জিনপিং নতুন চীনা বিনিয়োগের  তথ্য জানানোর পাশাপাশি আগে দেওয়া কিছু ঋণ মওকুফের ঘোষণাও দিয়েছেন। এসময় ঋণ দিয়ে দেশগুলোকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। শি জিনপিংচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

নতুন ছয় হাজার কোটি ডলারের যে ঋণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন শি জিনপিং, তার জন্য তিন বছর আগেই দাবি তুলেছুল আফ্রিকার দেশগুলো। নতুন বরাদ্দের ছয় হাজার কোটি ডলারের মধ্যে এক হাজার পাঁচশ কোটি ডলার দেওয়া হবে সহায়তা ও সুদবিহীন ঋণ হিসেবে। । ঋণ দেওয়া হবে দুই হাজার কোটি ডলার। দশ হাজার কোটি ডলার দেওয়া হবে চীন-আফ্রিকা উন্নয়ন তহবিলের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে। আরও পাঁচশ কোটি ডলার যাবে আফ্রিকায় আমদানি করা পণ্যের মূল্য হিসেবে। শি জিনপিংয়ের ভাষ্য, আগামী তিন বছরে  চীনের বিনিয়োগকারীরা অন্তত এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবেন আফ্রিকায়। তাছাড়া চীনের সুদবিহীন ঋণ নিয়েছিল আফ্রিকার যেসব ছোট ও গরিব দেশ তাদের ঋণ মকুকফ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শি জিনপিং তার ভাষণে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, মরুকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের কথা মাথায় রেখে আফ্রিকায় অন্তত পঞ্চাশটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেছেন, আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে বিনামূল্যে নিরাপত্তা দিতে একটি ফোরাম গঠন করবে চীন এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় একটি ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’ তহবিলও গঠন করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি রয়টার্স।

‘আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার বিষয়টির মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে থাকা বড় বাধাগুলো অপসারণ করা। আমরা চাই না, আমাদের দেওয়া ঋণের অর্থ কোনও অর্থহীন প্রকল্পে ব্যয় হোক। ঋণের অর্থের সেখানে যাওয়া উচিত যেখানে তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে, আফ্রিকার উন্নয়ন নয় বরং নিজেদের ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকা অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষা করাই চীনের মূল লক্ষ্য। তারা আফ্রিকা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের জন্যই আফ্রিকার সঙ্গে এতো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। তাছাড়া, চীন যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন করে সেসব প্রকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আফ্রকার স্থানীয় শ্রমিকদের ব্যবহারের বদলে চীনা প্রকপে মূলত চীনের শ্রমিকদেরই ব্যবহার করা হয়।

/এএমএ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম