অস্ট্রিয়ায় ক্ষমতাসীন জোট সরকার প্রকাশ্য স্থানে পুরো মুখ ঢেকে রাখার নেকাব নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। সরকার বলছে, স্কুল কলেজ, আদালত এরকম জায়গায় নেকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে জোটের শরিক দলগুলো একমত হয়েছে। এছাড়া যারা সরকারি চাকরি করেন তাদের মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব কিংবা অপর ধর্মীয় প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথাও সরকার বিবেচনা করছে। বিবিসি বাংলা এ খবর জানিয়েছে।
সোশাল ডেমোক্র্যাট ও রক্ষণশীল পিপলস পার্টির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে দরকষাকষির পর এই সমঝোতা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে অতি দক্ষিণপন্থী ফ্রিডম পার্টির উত্থানকে প্রতিহত করার চেষ্টা হিসেবে। গত মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই দলের প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন। ভবিষ্যতে সরকার কোন পথে এগুবে এই প্রশ্নে অস্ট্রিয়ার জোট সরকার গত সপ্তাহে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিলো। সরকার দেশটিতে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তারই একটি হলো মুসলিমদের নেকাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা।
সরকার বলছে, ‘মুক্ত সমাজের ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর জন্যে প্রয়োজন খোলামেলা যোগাযোগ। প্রকাশ্য স্থানে এরকম পুরো মুখ ঢেকে রাখার পর্দাপ্রথা এর প্রতিবন্ধক। আর একারণেই এসব নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অস্ট্রিয়ায় মাত্র দেড়শো জনের মতো নারী নেকাব পরেন। তবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তারা মনে করেন, এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে নারী পর্যটকের সংখ্যা আগমন কমে যেতে পারে।
সরকারের একজন মুখপাত্র অস্ট্রিয়ার একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, ভিয়েনার কেন্দ্র থেকে শুরু করে স্কি করার জায়গাগুলোতেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে অস্ট্রিয়ার সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে।
সরকারের একজন মন্ত্রী সেবাস্টিয়ান কুর্তজ বলেছেন, পুলিশবাহিনী বা স্কুলের মতো জায়গায় যারা কাজ করেন তাদের নিরপেক্ষ হিসেবে দেখতে পাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্স ও বেলজিয়াম ২০১১ সালে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে। আর একই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টেও।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেলও গতমাসে বলেছিলেন, পুরো মুখ ঢেকে রাখার নেকাব তার দেশেও নিষিদ্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, আইনগতভাবে যেখানেই এটি করা সম্ভব সেখানেই তা করা হোক।
ইউরোপের অনেক দেশে এসব নিষিদ্ধ করা হলেও যুক্তরাজ্যে এখনও তা বিবেচনা করা হচ্ছে না।
অস্ট্রিয়ার জোট সরকার আরো যেসব বিষয়ে সম্মত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সাবেক জিহাদিদের গায়ে ইলেকট্রনিক ট্যাগ না লাগানো এবং বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে আনা। এসব পরিকল্পনার অনেকগুলিই আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে। কার্যকর হওয়ার আগে পার্লামেন্টে অনুমোদিত হতে হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
/এএ/








