ফ্রান্সের সরকারি রেলসেবার কর্মীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। ফ্রেঞ্চ স্টেট রেলওয়ের (এসএনসিএফ) কর্মীদের ডাকা ওই ধর্মঘটে রেলচালকরাও যোগ দেবেন। এতে ফ্রান্সের রেল ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। সোমবার থেকে ওই ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চুক্তিভিত্তিক করতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ডাকা হয়েছে ওই কর্মসূচি। বিবিসি লিখেছে, এর আগেও ধর্মঘট উপেক্ষা করে নিয়োগ ও বরখাস্তের প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন আইন পাস করেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
গত ২২ মার্চ রেলকর্মীদের ডাকা ধর্মঘটে হাজার হাজার শিক্ষক, সেবিকা ও অন্যান্য খাতের পেশাজীবীরা যোগ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতগুলোকে উদারীকরণের ম্যাক্রোঁর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তা শক্তিশালী প্রতিবাদের নিদর্শন ছিল।
এসএনসিএফের কর্মীরা বর্তমানে বছরান্তে বেতন বৃদ্ধি, আগাম অবসর নিতে পারা, বছরে ২৮ দিনের বেতনসহ ছুটি কাটানো এবং ছাঁটাই না হওয়ার নিশ্চয়তার মতো সুবিধা ভোগ করেন। এমনকি তাদের নিকটাত্মীয়রা বিনামূল্যে রেলের টিকিটও পান। সরকার চায় রেলকর্মীদের ওইসব বিশেষ সুবিধা বাতিল করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি প্রবর্তন করতে। কারণ ২০২৩ সাল থেকে ফ্রান্সের সরকারি রেলসেবাকেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালা অনুযায়ী চলতে হবে। বর্তমানে ফ্রান্সের সরকারি রেলসেবা বিশাল দেনার মধ্যে রয়েছে।
এসএনসিএফের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের একজন আলাইন ক্রাকোভিচ ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, উচ্চগতির টিজিভি রেলগুলোর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ মঙ্গলবার চলাচল করবে এবং সুলভ শ্রেণির ওয়িগো সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক রেলসেবা চালু থাকবে। ইউরোস্টার রেলের ৭৫ শতাংশই পরিবহনের কাজ করবে।
গত মে মাসের নির্বাচনের পর থেকে ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে শিল্পখাতে এটাই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হতে পারে। রেলের পাশাপাশি এয়ার ফ্রান্সে কর্মরতরাও ইতোমধ্যে ৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মসূচি নিতে যাচ্ছেন। রেলের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ ও আবর্জনা পরিষ্কার বিভাগের কর্মীরাও ধর্মঘটে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ফ্রান্সের মাত্র ১১ শতাংশ পেশাজীবী ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত। যা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু ফ্রান্সের রাজনীতিতে তারা তাদের সক্ষমতার চেয়েও বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্যে সরব হয়। এর আগে তাদের আহুত ধর্মঘটের পরও ম্যাক্রোঁ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ ও বরখাস্ত প্রক্রিয়া সহজ করতে আইন পাস করতে পেরেছিলেন।








