রাশিয়ার প্রতিবেশী নরওয়ে দেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির মেয়াদা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। নরয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশটিতে উপস্থিত মার্কিন মেরিন সেনাদের উপস্থিতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তারা অনুরোধ জানাতে পারেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ন্যাটোভুক্ত কোনও দেশে মার্কিন সেনাদের থাকার এই ধারা সূচিত হয় ২০১৭ সালে নরয়েতে মার্কিন মেরিন সেনাদের যাওয়ার মধ্য দিয়ে।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম দফায় কিছু মার্কিন সেনা নরয়েতে গিয়েছিল। তারপর আরও মেরিন সেনা পাঠানো হয় রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশটিতে। বর্তমানে সেখানে ৩৩০ জন মেরিন সদস্য অবস্থান করছে যাদের দেশটিতে থাকার কথা ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত। রয়টার্স লিখেছে, নরয়েতে মার্কিন সেনার উপস্থিতিকে ভালোভাবে নেয়নি রাশিয়া। কারণ গত জুন মাসেও নরয়েতে মেরিন সেনাদের থাকার মেয়াদ এক দফা বাড়ানো হয়েছিল। সে সময়েই রাশিয়া বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিল।
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইনে এরিকসেন সোয়েরেইডে বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টির বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছি। আমাদের দিক থেকে আমরা মনে করি নরয়েতে মার্কিন মেরিন সেনাদের উপস্থিতি খুবই সফল এবং উপযোগী ছিল। যেভাবে সবকিছু চলেছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র খুব খুশি। শীতকালীন প্রশিক্ষণ নেওয়া ও শীতকালীন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা খুব ভালভাবেই গড়ে উঠেছে তাদের মধ্যে। তারা এখন ভালোভাবেই ঠাণ্ডাকে মোকাবেলা করতে সক্ষম।’ তার ভাষ্য, অসলো মস্কোকে সামরিক হুমকি হিসেবে দেখে না এবং ন্যাটোর দক্ষিণে উত্তর মেরু অঞ্চলে যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে তিনি মনে করেন, রাশিয়াতে সামরিক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র, পাল্টে যাচ্ছে।
২০১৭ সাল থেকে মেরিন সেনাদের নরয়েতে উওস্থিতির মেয়াদ জুন মাসে একবার বাড়ানো হয়েছিল। তখন অসলোতে থাকা রুশ দূতাবাস বলেছিল, মার্কিন সেনা উপস্থিতির মেয়াদ আবারও বাড়ালে তা নরওয়ে ও রাশিয়ার সম্পর্ককে খারাপের দিকে নিয়ে যাবে এবং ন্যাটোর দক্ষিণের ওই এলাকায় যুদ্ধের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে তুলবে।








