নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে গুলিবর্ষণ করে ৫০ জন মুসল্লীকে হত্যাকারী খুনির কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করার কারণে অস্ট্রিয়ার একটি উগ্র ডানপন্থী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে পারে দেশটির সরকার। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জ বলেছেন, আইডেন্টিটারিয়ান মুভমেন্ট অব অস্ট্রিয়া (আইবিও) কোনও সন্ত্রাসী সংগঠন কি না তা তদন্ত করছে সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
অস্ট্রীয় প্রসিকিউটররা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই সংগঠনের নেতা মার্টিন সেলনার নিউ জিল্যান্ডের খুনি ব্রেন্টন ট্যারান্টের কাছ থেকে দেড় হাজার ইউরো গ্রহণ করেছেন। তবে সেলনার অর্থ গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও ট্যারান্টের সঙ্গে কোনও সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।
চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান বলেন, এই মুহূর্তে আমরা এটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে তারা আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করেছে। ফলে নিউ জিল্যান্ডে হামলাকারীর সঙ্গে তাদের একটা যোগসূত্র আছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। কোনও ধরনের চরমপন্থার স্থান আমাদের সমাজে নেই। হোক তা উগ্রবাদী ইসলাম বা উগ্র ডানপন্থী মৌলবাদ।
চ্যান্সেলর জানান, যদি গোষ্ঠীটি সন্ত্রাসী সংগঠন হয় তাহলে নিষিদ্ধ করা হবে।
২৫ মার্চ সংগঠনটির নেতা মার্টিন সেলনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে অস্ট্রীয় পুলিশ। ওই অভিযানে কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির নাম মার্টিন সেলনের।
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। ব্রেন্টন ট্যারান্টের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী প্রবণতা পাওয়া গেছে। সে ট্যারান্টের সঙ্গে ‘আইডেন্টিটারিয়ান মুভমেন্ট অব অস্ট্রিয়া’ এর প্রধান মার্টিন সেলনেরের যোগসাজশ রয়েছে কিনা তা জানতে তদন্ত করছে অস্ট্রীয় পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে তার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
ইউটিউবে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ক্রাইস্টচার্চ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেলনের। তিনি বলেন, ‘আমি ওই হামলার ব্যাপারে কিছুই জানি না।’








