পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত অ্যামাজন জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কারণে জি-সেভেন সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নেতারা সরঞ্জাম ও আর্থিক সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, জি-সেভেন সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২২ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিতে রাজি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা বৈঠকের পর এই সমঝোতায় উপনীত হন।
ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, এই তহবিল অবিলম্বে সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দৃঢ় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ফ্রান্স।
১৫ আগস্ট থেকে জ্বলছে ‘দুনিয়ার ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। এরমধ্যেই গত বৃহস্পতি থেকে শুক্রবারের মধ্যে নতুন করে অ্যামাজনের এক হাজার ২০০টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে ছয়টি রাজ্য। বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ রকমের আগুনের কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। এসব রাজ্যের কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাইছে। সেনা সহায়তা চাওয়া রাজ্যগুলো হচ্ছে পারা, রন্ডোনিয়া, রোরাইমা, টোকানটিন্স, একর এবং ম্যাটো গ্রোসো। এরমধ্যে রন্ডোনিয়া প্রদেশে ইতোমধ্যেই সামরিক বাহিনীর বিমান থেকে পানি ঢালার কাজ শুরু হয়েছে।
ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্স জানিয়েছে, ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার দফায় অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে এ বনভূমি। তবে আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবারের আগুন ভয়াবহ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী ও বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো-র নীতিকে দায়ী করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বন পুড়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নীতির জন্য নিজ দেশের পরিবেশবাদীদের কাছেও তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। সর্বশেষ আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার ঘটনায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাজিলিয়ান অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে অন্য দেশগুলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অ্যামাজনের আগুন নেভাতে উদ্যোগী হয় বলসোনারো সরকার।








