বেলারুশের রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা অগ্রাহ্য করে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেনকোর পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। রবিবার রাজধানী মিনস্কে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
গত ২৬ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেনকো। গত ৯ আগস্ট দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর শুরু হয় তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ। টানা চার সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভের প্রাথমিক দিনগুলোতে অনড় অবস্থানে থাকলেও সম্প্রতি সংবিধান সংস্কারে নিজস্ব প্রস্তাবনা তুলে ধরে এনিয়ে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেনকো পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন দেশটির নাগরিকরা। মূলত সবশেষ নির্বাচনে জালিয়াতি করে আবারও ক্ষমতায় আসার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ চলছে। তবে, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। তার অভিযোগ এই বিক্ষোভে পশ্চিমা বিশ্ব নাক গলাচ্ছেন।
বিক্ষোভ দমাতে জলকামানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সামগ্রী নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিনস্কে দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি উপেক্ষা করে হাজারও মানুষ বিক্ষোভ করছেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এছাড়া পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকেও আটক করেছে।
বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের দমনের অভিযোগ উঠেছে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে। গত মাসের নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে বিক্ষোভ-সহিংসতায় অন্তত চারজনের প্রাণহানি ও আরও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারী, মানবাধিকার কর্মী এবং পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কঠোর নিপীড়নের মাধ্যমে দমন করছে দেশটির দাঙ্গা পুলিশ।
সরকারি দমন-পীড়নের মুখে বিরোধীদলীয় অনেক নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। শনিবার দেশটির মানবাধিকার কর্মী ওলগা কোভালকোভা কারাবন্দির হুমকির মুখে প্রতিবেশী পোলান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন।
নির্বাচনে জালিয়াতি ও গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেনকোসহ দেশটির উচ্চ পদস্থ ৩০ কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করেছে তিনটি দেশ। সোমবার এই যৌথ পদক্ষেপ ঘোষণা করে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুনিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য এবং বাল্টিক অঞ্চলের এই দেশগুলো জানিয়েছে, বেলারুশের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানানোর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।








