করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা উদ্ভাবিত হলে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অধীনে তা বিশ্বের জন্য নিশ্চিত করার জন্য ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার তহবিল প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার প্যারিস পিস ফোরামে অর্থায়নের এই লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। অনলাইনে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নেতারা সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।
কোভিড-১৯ মহামারির বিপর্যয় লাঘবে উপায় খুঁজতে তৃতীয় পর্যায়ে এই ফোরাম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের লক্ষ্য দরিদ্র দেশগুলোসহ বিশ্বের সবার জন্য করোনাভাইরাস টেস্ট, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন সুবিধা নিশ্চিত করতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা যদি মানবতার কিছু অংশকে ত্যাগ করি তাহলে আমরা ভাইরাসকে পরাস্ত করতে পারব না।’
ইউরোপ এবং ইউরোপের বাইরেও দ্রুত করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তবে করোনার কার্যকর ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা এমনকি চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অ্যান্থনি ফাউসি বৃহস্পতিবার বলেছেন, করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা আসার পর মহামারি আর বেশি দিন থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জায়ান্ট ওষুধ কোম্পানি ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেক ৯০ শতাংশ কার্যকর এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে।
প্যারিস পিস ফোরামের অনলাইন সম্মেলনে প্রত্যাশা করা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসিটি-এক্সিলেটর (এক্সেস টু কোভিড ১৯ টুলস এক্সিলেটর) প্রোগ্রামের অধীনে করোনার টেস্ট, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে অনেক দেশ তহবিল ঘোষণা করবে।
সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অনুমিত হিসাবে বলা হয়, আগামী বছরে ২০০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ, ২৪৫ মিলিয়ন লোকের চিকিৎসা এবং ৫০০ মিলিয়ন লোকের টেস্টের জন্য এসিটি-এক্সিলেটরের ৩৮ বিলিয়ন ডলার চাহিদার বিপরীতে প্রতিশ্রুত তহবিলের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস বলেছেন, ২৮.৫ বিলিয়ন ডলারের ‘অর্থায়ন ঘাটতি’ রয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে জরুরি ৪.৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।








