শিয়া নেতা শেখ নিমরসহ ৪৭ ব্যক্তির শিরশ্ছেদের ঘটনায় সৌদি চার্জ দ্যা আফেয়ার্সকে তলব করেছে সুইজার্যলান্ড। এ ঘটনায় হতাশা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে দেশটি। সোমবার সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে নীতিগতভাবে সুইজারল্যান্ডের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া, শেখ নিমরের শিরশ্ছেদের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা এড়িয়ে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়াছে দেশটি।
এদিকে, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শেখ নিমরের শিরশ্ছেদের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সৌদি-ইরান সম্পর্ক। এ ঘটনার পর গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বৈরী সম্পর্ক পার করছে দেশ দুটি। শিরশ্ছেদের ঘটনায় তেহরানে সৌদি দূতাবাসে আগুন এবং রিয়াদ থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত মাত্রা পায় এ বৈরিতা।
চলমান দ্বন্দ্বে সৌদি আরবের সঙ্গে যোগ দেয় কুয়েত, বাহরাইন, সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি-ইরানের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মেরুকরণ। এ ছাড়া পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম দেশগুলোতে সুন্নি-শিয়া সংঘাতেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুন্নিপ্রধান সৌদি আরব এবং শিয়াপ্রধান ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ। এ দুদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা কেবল পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ছড়িয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকায়। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনা মূলত এরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
রাইস ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক রিসার্চ ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোয়েটস উলরিকসেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার বর্তমান অচলাবস্থা অনেকটা আশির দশকের মতোই প্রকট। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত ছিল। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব ও ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষে তৈরি হয়েছিল এ অচলাবস্থা। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দিয়েছিল সৌদি আরব ও জিসিসিভুক্ত অন্য দেশগুলো।
১৯৮৪ সালে নিজ আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে দাবি করে একটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে সৌদি আরব। এছাড়া শিয়াপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তারের জন্য ইরানের বিপ্লব পরবর্তী সরকারগুলোকে দায়ী করে আসছে সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো।
ক্রিস্টিয়ানের মতে, বছরের পর বছর ধরে যে জাতিগত রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যকে সুন্নি-শিয়া প্রশ্নে বিভক্ত করে রেখেছে তার নজির অবশ্য এরইমধ্যে দেখা গেছে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। সূত্র: বিবিসি, প্রেস টিভি।
/এমপি/








