জার্মানিতে ৬০ বছরের কম বয়সীদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে। রক্ত জমাট বাঁধার বিরল এক ঝুঁকির কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
জার্মানিতে এ পর্যন্ত মোট ২৭ লাখ মানুষকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জনের মধ্যে বিরল ধরনের রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা গেছে। যাদের এ সমস্যা দেখা দেয় তারা প্রায় সবাই মাঝবয়সী বা তার চেয়ে কম বয়সী নারী।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কয়েকটি দেশে এর আগেও এই একই সমস্যার কথা উল্লেখ করে সতর্কতামূলক কারণে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু তার কিছু দিন পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ উভয়েই এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর বলে মত দিলে ফের ভ্যাকসিনটির ব্যবহার শুরু হয়।
এর আগে কানাডাতেও ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা স্থগিত করা হয়েছিল। সোমবার কর্তৃপক্ষ আবারও ওই স্থগিতাদেশ জারির সুপারিশ করেছে।
কানাডায় এ পর্যন্ত তিন লাখ মানুষকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলছে, তারা তাদের উপাত্তগুলো পরীক্ষা করে দেখছে যে, 'থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া' নামে এই অতি বিরল রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা লাখ লাখ মানুষের একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই যতগুলো ঘটে থাকে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ঘটছে কিনা।
যুক্তরাজ্যে এক হিসাব অনুযায়ী, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারী এক কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে পাঁচ জনের ‘সেরেব্রাল সাইনাস ভেই থ্রম্বোসিস’ বা সিএসভিটি নামে এই রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা গেছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঝুঁকির কোনও প্রমাণ এখনও নেই
বিবিসির স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদদাতা নিক ট্রিগল বলছেন, লাখ লাখ মানুষকে একটি টিকা দেওয়ার পর কিছু লোক যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে বা মারা যায়, তাহলে তার অর্থ এই নয় যে টিকার কারণেই এটা হয়েছে। এমন হতে পারে যে তা স্বাভাবিক অন্য কোনও কারণে হয়েছে।
তিনি বলছেন, জার্মানিতে যে রক্ত জমাট বাঁধার কথা বলা হচ্ছে তা অতি বিরল এবং কত লোকের এটা হতে পারে তা বলা কঠিন।
নিক ট্রিগল বলছেন, যেটা জানা যায় এ ধরনের রক্ত জমাট বাঁধা নারীদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি খেলে এর ঝুঁকি বাড়ে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিলে যে এমন রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেড়ে যায়; এমন ধারণার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনও প্রমাণ নেই।
আপত্তি করবেন না ম্যার্কেল
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, কোনও টিকা বা ওষুধ নেওয়া যে নিরাপদ এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ থাকা চলবে না। প্রতিটি সন্দেহ এবং প্রতিটি ব্যক্তির দৃষ্টান্তকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এটা জানার মধ্যে দিয়েই টিকার ব্যাপারে মানুষের আস্থা তৈরি হয়।
৬৬ বছরের ম্যার্কেল জানান, তার যখন পালা আসবে তখন অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিতে তিনি কোনও আপত্তি করবেন না।
জার্মানিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেন্স স্পাহন এবং ১৬টি রাজ্যের মন্ত্রীরা এক জরুরি বৈঠকে ৬০ বছরের কম বয়সীদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। অবশ্য ৬০ বছরের কম বয়স্ক জার্মানরা এখনও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিতে পারবেন। তবে সেটি ডাক্তারের বিবেচনা সাপেক্ষে। টিকা গ্রহণকারীর ঝুঁকি যাচাই এবং এ ব্যাপারে গ্রহণকারীকে বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেবার পরই চিকিৎসক এ ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত জানাবেন।
যারা ইতোমধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি পরামর্শ এপ্রিল মাসের শেষে দেওয়া হবে। সূত্র: বিবিসি।









