স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহরের সব বাসিন্দা ‘গ্যালিসিয়ান র্যাম্বো’ নামে পরিচিত এক পলাতক খুনিকে ধরতে একাট্টা হয়েছেন। একাধিকবার জেল পালানো ও প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল জানার কারণে তার নাম দেওয়া হয়েছে গ্যালিসিয়ান র্যাম্বো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর খবরে বলা হয়েছে, আলফ্রেডো সানচেজ চাকন মার্চ মাস থেকে পলাতক। মাত্র একদিন তাকে কারাগারের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ৬৩ বছর বয়সীর পালানোর ঘটনা খুব কম মানুষকে অবাক করেছে।
১৯৯৬ সালে একটি হত্যার জন্য ২০২৫ পর্যন্ত কারাগারে থাকার কথা সানচেজ চাকনের। কিন্তু এরই মধ্যে দুবার কারাগার থেকে পালিয়ে স্পেনজুড়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন চাকন।
১৯৯৯ সালে প্রথমবার পন্টেভেদ্রা কারাগারের দেয়াল টপকে পালান তিনি। তখন দুই বছরের বেশি সময় পলাতক ছিলেন। উত্তর স্পেনের ঘন জঙ্গলে বেঁচে থাকতে স্পেনিশ লিজন-এ পাওয়া প্রশিক্ষণ কাজে লাগান সাবেক এই সদস্য।
২০০১ সালে পুনরায় কারাগার থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। তবে এবার ধরা পড়ার আগে তিনি মাত্র ২৫ মিনিট পলাতক ছিলেন।
এবার গ্যালিসিয়ার পন্টেদিউম নামের ছোট্ট শহরে কয়েক মাস ধরে সর্তক সংকেত বাজতে শুরু করে। কারাগার থেকে ৬৫ মাইল দূরে এই শহর অবস্থিত। গ্রীষ্মের শেষ দিকে পৌরসভার প্রায় ৮ হাজার বাসিন্দা তাদের রান্নাঘর থেকে বিস্কুট, বিয়ারসহ অন্যান্য বস্তু রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়ার কথা জানাতে শুরু করেন।
এক ব্যক্তি জানান, তিনি মধ্যরাতে বাড়িতে কীভাবে এক ব্যক্তির সঙ্গে ধাক্কা খান। ওই ব্যক্তি তার ফ্রিজ খুলছিল।
রহস্যময় চুরির পেছনে সানচেজ দায়ী বলে মানুষের ধারণা পাকাপোক্ত হয় এক শিকারির বর্ণনায়। শহরের কাছে ইউমি পার্কের জঙ্গলে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে সানচেজের মতো এক ব্যক্তির বসবাসের কথা জানান তিনি।
এরপরই একাট্টা হন শহরের বাসিন্দারা। কয়েজন ঘোষণা দেন সানচেজকে ধরার জন্য টহল দেবেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের এই অবস্থায় পড়া আপত্তিজনক’। অপর একজন বলেন, বিশ বছর আগেও সানচেজ এই পার্কে লুকিয়ে ছিলেন সানচেজ।









