রুশ সেনাদের ইউক্রেন থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার রাতে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ সেনাদের সীমান্তে তাড়া করবে বলেও অঙ্গীকার করেছেন তিনি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন সময়ে জেলেনস্কি এই আহ্বান জানালেন যখন খেরসন শহরের কাছে অভিযান শুরু করেছে ইউক্রেনীয় সেনারা।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী তাদের বেদখল হওয়া অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেন তার স্বাতন্ত্র্যে ফিরছে। রুশ বাহিনীর পালানোর সময় এসেছে। তারা যদি বাঁচতে চায় তবে যেন তারা বাড়ি ফিরে যায়।’
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় সেনারা মাইকোলাইভ এবং খেরসন অঞ্চলে হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে শত্রুর আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই রুশ বাহিনীতে নতুন করে নিয়োগের কথা জানিয়েছে মস্কো। মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মার্ক হার্টলিং মনে করেন, এর অর্থ দাঁড়ায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের সেনাবাহিনী বড় ধরনের একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। এই যুদ্ধে রাশিয়ার ৪৫ হাজার সেনা আহত অথবা নিহত হয়েছে বলে পশ্চিমা ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
যুদ্ধের ময়দানে রুশ সেনারা যখন প্রতিনিয়ত ভুগছে তখন নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। ফলে ১৯ লাখ থেকে বেড়ে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য সংখ্যা হবে ২০ লাখ ৪০ হাজার। গত বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষরও করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন করে ১ লাখ ৩৭ হাজার নতুন সদস্য নেওয়া হবে। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু হবে।
রাশিয়া যখন সেনাবাহিনীতে নতুন করে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ঠিক সেই সময়টিতে রুশ সেনাদের জীবন নিয়ে ইউক্রেন ছেড়ে পালানোর আহ্বান জানালেন জেলেনস্কি। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোও সেনাসদস্য বৃদ্ধির উদ্যোগকে রাশিয়ার দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেনে সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে মস্কো। অনেকে সেনা নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও অনেকে। যারা মাঠে রয়েছে তাদের অনেকে অনুপ্রেরণা, অভিজ্ঞতা বা যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সঙ্গে আলাপকালে হার্টলিং বলেন, পুতিনের সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশ ইউক্রেনে রাশিয়ার বিজয় অর্জনের সম্ভাবনার জন্য একটি নেতিবাচক সংকেত বহন করে। সত্যিকার অর্থেই তারা একটি সংকটের মধ্যে রয়েছে।









