নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ব্রিটেন। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে (এনএইচএস) অতিরিক্ত এক বিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করা হবে।
সোমবার এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, দেশটির যেসব মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন তাদের কল্যাণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে করে সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা পাবেন রোগীরা। মানসিক সাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে এটি ব্রিটিশ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের একটি বিশাল সংস্কার বা পরিবর্তন।
এর আওতায় অতিরিক্ত ১০ লক্ষাধিক মানুষকে মানসিক সাস্থ্য সেবার আওতায় নিয়ে আসতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় একটি স্বতন্ত্র টাস্কফোর্স।
এর আগে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, ২০২০ সালের পর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দেবে সরকার। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাজ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সংকটের বিষয়টি সম্প্রতি দেশটির গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব পায়। সরকারি এক টাস্কফোর্সের হাতে এ খাতের গুরুতর কিছু নথি ফাঁস হওয়ার পরই গণমাধ্যমের নজর কাড়ে বিষয়টি।
ওই টাস্কফোর্স জানিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অনেকেই আত্নহত্যা করেন। মানসিক অসুস্থতার শিকার শিশুদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাইন্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পল ফারমার। তিনি বলেন, ‘অনেকেই প্রয়োজনমাফিক ও সময় অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। এতে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বাইরে আর্থিক ক্ষতিও প্রচুর।’
টাস্কফোর্স জানায়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে আগ্রহী শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশের চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে। কেননা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল। এছাড়া দেশের অন্তত ১৫ শতাংশ অঞ্চলে নারীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত নয়। মানসিক জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক স্বাস্থ্যসেবাতেও অবহেলা করা হয়ে থাকে। ধূমপান ও মাদকাসক্তির চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত গুরুতর প্রভাব রাখে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
/এমপি/








