রাশিয়ার ছয়টি হাইপারসনিক কিঞ্জাল ক্ষেপণাস্ত্র এক রাতে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়েছে। এসব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে অপ্রতিরোধ্য বলে দাবি করে আসছিল রাশিয়া। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এই প্রথম ছয়টি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করলো ইউক্রেন। এর আগে এই ধরনের একটি অস্ত্র ভূপাতিতের দাবি করেছিল কিয়েভ। এই দাবি সঠিক হলে নতুন মোতায়েনকৃত পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতার সফল নমুনা হবে।
সোমবার দিবাগত রাতে যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ছুড়েছিলে সেগুলোর মধ্যে ছয়টি কিঞ্জাল ভূপাতিত করেছে।
ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান ভ্যালেরি ঝালুঝনি বলেছেন, রাশিয়ার ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে সফলভাবে।
এই বিষয়ে রাশিয়ার তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কিঞ্জাল ভূপাতিত করার দাবি করেছিল ইউক্রেন। এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পায় ইউক্রেন। তবে কতটি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা পেয়েছে এবং কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে তা সম্পর্কে কিছু জানায়নি দেশটি। ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস দেশটিকে এই অস্ত্র দিয়েছে।
রাশিয়ার সবচেয়ে অত্যাধুনিক একটি অস্ত্রের একটি হলো কিঞ্জাল ক্ষেপণাস্ত্র। রুশ সেনাবাহিনীর মতে, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতি শব্দের গতির চেয়ে দশগুণ বেশি। ফলে বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এগুলোকে ভূপাতিত করা কঠিন বলে মনে হতো।
রুশ শব্দ কিঞ্জাল এর অর্থ হলো ড্যাগার। ২০১৮ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যে ছয়টি অস্ত্র অবমুক্ত করেছিলেন এটি সেগুলোর একটি। ওই সময় পুতিন দাবি করেছিলেন, বিশ্বে বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলোকে ভূপাতিত করতে পারবে না।









