তুরস্কের বৃহত্তম দৈনিক পত্রিকা ‘জামান’- এর দায়িত্ব নিয়েছে দেশটির সরকার। আদালতের আদেশে শুক্রবার রাতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগ মুহূর্তে বেপরোয়া শেষ সংখ্যা প্রকাশ করে পত্রিকাটি। শনিবারের সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, দিনটি তুরস্কের গণমাধ্যমের জন্য ভয়াবহ অন্ধকার দিনগুলোর একটি।
সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা পত্রিকাটির দায়িত্ব নেওয়ার আগ মুহূর্তে শনিবারের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। প্রথম পাতায় কালো ব্যাক গ্রাউন্ডে প্রধান শিরোনাম করা হয় ‘সংবিধান স্থগিত’। আরও বলা হয়, তুরস্কের গণমাধ্যমের ইতিহাসে যুক্ত হলো ভয়াবহ আরেকটি কালো দিন। মুক্ত গণমাধ্যমের কথা প্রধানমন্ত্রী বললেও তুরস্কের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত পত্রিকা দখল করা হয়েছে। পত্রিকাটির ইংরেজি সংস্করণেও একই ধরনের কথা লেখা হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, তুরস্কের গণমাধ্যমের জন্য লজ্জাজনক দিন।
প্রায় সাড়ে ছয় লাখ সার্কুলেশন হওয়া জামান পত্রিকার দায়িত্ব সরকারকে নিতে দেশটির একটি আদালত রুল জারি করেন। তবে আদালত কোনও ব্যাখ্যা দেননি। প্রতিবাদকারীদের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে শুক্রবার শেষ রাতের দিকে পুলিশ পত্রিকার কার্যালয়ে প্রবেশ করে।
জামানের এডিটর-ইন-চিফ আব্দুল হামিত বিলিসি বলেন, ‘গত তিন চার বছর ধরেই এই চর্চা চলে আসছে। যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করে দেওয়া হয় অথবা কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।’
পত্রিকাটির দায়িত্ব সরকার নেওয়াতে বিক্ষোভ করেছেন এর পাঠকরাও। অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের হিজমেট মুভমেন্ট নামক সংগঠনের সঙ্গে পত্রিকাটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ সংগঠনটিকে তুরস্ক সরকার সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সরকারের দাবি দেশটির সরকারকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি। এক সময় গুলেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরে তাদের সম্পর্কে চিড় ধরে। গুলেনের অনেক সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। সাংবাদিকদের প্রতি সরকারের আচরণের কারণে আঙ্কারার প্রতি আন্তর্জাতিক সমালোচনা দিন দিন বাড়ছে। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/








