সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা তার হাতে তুলে দিয়েছেন। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে যাতে করে তিনি এই পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন। এই পরিকল্পনা অনুসারে, ইউক্রেনকে বলা হবে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যোগ দিলেই কেবল কিয়েভকে আরও অস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল কেইথ কেলগ বলেছেন, একই সময়ে মস্কোকে সতর্ক করবে যুক্তরাষ্ট্র। আর তা হবে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানালে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থন আরও বাড়বে।
২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চিফস অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেছেন কেইথ কেলগ ও ফ্রেড ফ্লেইটজ। এই পরিকল্পনাটি দুজন তৈরি করেছেন। এতে শান্তি আলোচনার সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।
ফ্লেইটজ বলেছেন, তারা ট্রাম্পের কাছে নিজেদের কৌশল তুলে ধরেছেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
তার কথায়, আমি বলছি না ট্রাম্প পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছেন বা সব কথার সঙ্গে একমত। কিন্তু যে সাড়া পেয়েছি তাতে আমরা সন্তুষ্ট।
ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টিভেন চিউং বলেছেন, শুধু ট্রাম্প বা প্রচার টিমের অনুমোদিত ব্যক্তির বক্তব্যকে আনুষ্ঠানিক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
৫ নভেম্বরের নির্বাচনে বাইডেনকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হলে দ্রুত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি কীভাবে তা করবেন, এই বিষয়ে কোনও বিশদ কিছু জানাননি। এই প্রথম ট্রাম্প সহযোগীদের কাছ থেকে এমন কৌশল তুলে ধরা হলো।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় যে কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে তাতে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে এর বিরোধিতা আসতে পারে।
ক্রেমলিন বলেছে, ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসন যদি ক্ষমতায় আসে এবং সম্ভাব্য কোনও শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাব করে তবে তাতে রণক্ষেত্রের বাস্তবতার প্রতিফলন থাকতে হবে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
এই পরিকল্পনার বিষয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
পরিকল্পনাটির মূল বিষয়গুলো ট্রাম্প-বান্ধব থিংক ট্যাংক আমেরিকা ফাস্ট পলিসি ইনস্টিটিউট প্রকাশ করেছে। এর নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছেন কেলগ ও ফ্লেইটজ।
কেলগ বলেছেন, ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হলে দ্রুত রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসাটা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের মুখপাত্র চিউং বলেছেন, ট্রাম্প একাধিকার বলেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে তারা অগ্রাধিকার থাকবে দ্রুত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকলে এই যুদ্ধ হত না। দুঃখজনক।
বাইডেনের প্রচার টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুতিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আগ্রহী নন ট্রাম্প।








