রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় বাহিনী নতুন এলাকা দখলের প্রচেষ্টায় তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী পারাপারের পন্টুন ব্রিজ ধ্বংস করতে কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করেছে তারা। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মঙ্গলবার পন্টুন ব্রিজটি অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং চারপাশে ধোঁয়ার মেঘ দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনটি সেতু ধ্বংস হওয়ার পর রুশ বাহিনী জভানোয়ে ও গ্লুশকোভো গ্রামের মধ্যে পন্টুন ব্রিজটি তৈরি করেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের অবস্থান বিস্তারের চেষ্টা করছে। দুই সপ্তাহ আগে এক আকস্মিক হামলার পর এখন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার রুশ সেনা সেম নদীর দক্ষিণে গ্লুশকোভস্কি জেলার এক পকেটে আটকা পড়েছে। কিছু বেসামরিক লোক ছোট নৌকায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী আরেকটি রুশ গ্রাম মার্টিনোভকা দখল করেছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে মালায়া লোকন্যা গ্রামে তীব্র লড়াইয়ের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনারা সাঁজোয়া যান থেকে রুশ সেনাদের ওপর গুলি চালায়। কয়েকটি বাড়িতে আগুন লেগেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার বাহিনী রুশ সীমান্তবর্তী শহর সুজার চারপাশে এক হাজার ২৫০ বর্গকিলোমিটার ‘শত্রু এলাকা’ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই বাফার জোনে এখন ৯২টি বসতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তিনি ‘প্রতিরক্ষা অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই হামলার আগে তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের জানাননি। তিনি বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই পরিকল্পনাকে অবাস্তব বলে মনে করতেন। তাই কাউকে আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানানো হয়নি। এখন বাস্তব সাফল্য নিজেই কথা বলছে।
কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের দ্রুত অগ্রগতির সময়, রাশিয়ার সেনাবাহিনী পূর্ব ইউক্রেনে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। মঙ্গলবার ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে, তারা নিউ-ইয়র্ক শহরটি দখল করেছে। যা ২০১৪ সাল থেকে যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল ছিল। আরেকটি যুদ্ধ হ্রোদিকভা গ্রামে চলছে, যা ইউক্রেনের সামরিক কেন্দ্রস্থল পোক্রোভস্কের নিকটবর্তী।
জেলেনস্কি ডনেস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি ‘কঠিন’ বলে স্বীকার করেছেন। টোরেৎস্ক শহরে ১৪টি এবং পোক্রোভস্ক অঞ্চলে ৩৪টি সংঘর্ষ হয়েছে। পোক্রোভস্কে বসবাসরত অনেকেই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কারণ কর্তৃপক্ষ দুই সপ্তাহের মধ্যে শহরটি যুদ্ধের কবলে পড়ার আশঙ্কা করেছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা থিঙ্কট্যাঙ্ক রুসির সামরিক বিজ্ঞানের পরিচালক ম্যাথিউ স্যাভিল বলেছেন, কুরস্ক আক্রমণ ইউক্রেনের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এটি রাশিয়ার বৃহত্তর অভিযানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের সংসদ রাশিয়া-সংযুক্ত ইউক্রেনীয় অর্থোডক্স গির্জা নিষিদ্ধ করার পক্ষে একটি আইন পাস করেছে। জেলেনস্কি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা তার দেশের ‘আত্মিক স্বাধীনতা’কে আরও শক্তিশালী করবে। রাশিয়া এটিকে ‘অবৈধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।









