ইউক্রেনের পার্লামেন্টে বহুল প্রত্যাশিত ‘বিজয় পরিকল্পনা’ উপস্থাপন করবেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার (১৬ অক্টোবর) এটি উন্মোচন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংক্ষিপ্ত সফরের সময় প্রধান পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
এই পরিকল্পনায় ন্যাটো সামরিক জোটে ইউক্রেনকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলা হয়েছে। ইউক্রেনের নেতা বলেছেন, এটি মস্কোকে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য করবে।
তবে পরিকল্পনার সঠিক বিবরণ জানা যায়নি। এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এতে পশ্চিমাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বাড়ানোর ও রাশিয়ার আরও গভীরে হামলার অনুমোদন দেওয়ার অনুরোধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আড়াই বছর ধরে চলমান যুদ্ধের পর সংসদে জেলেনস্কির বক্তৃতা দেওয়ার বিষয়টিকে ক্লান্ত ইউক্রেনীয় জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের আগে একটি অনিশ্চিত মুহুর্তের মুখোমুখি হয়েছে ইউক্রেন। আশা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফিরতে পারেন। এই নির্বাচনে জিতলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রিপাবলিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট। তবে কিয়েভের সমর্থকদের ভয়, দ্রুত চুক্তির নামে বড় ধরনের কোনও ছাড় দেওয়া হবে।
জেলেনস্কির বক্তৃতা বুধবার হবে না-কি তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি প্রেসিডেন্টর কার্যালয়। এটি অন্য কোনও সময় হবে কি না তাও নিশ্চিত নয়।
তবে ইরিনা গেরাশচেঙ্কোর মতো বিরোধী আইনপ্রণেতারা বলেছেন, সহকর্মী সংসদ সদস্যদের একটি অপরিকল্পিত অধিবেশনের জন্য সংসদে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল এবং জেলেনস্কি যে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করবেন এটি এখন আর ‘গোপন’ নয়।
তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মত হবে। কেননা, পরিস্থিতি এখন সত্যিই খুব, খুব কঠিন।’
পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনা করতে সেপ্টেম্বরের শেষে ওয়াশিংটনে প্রধান মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন জেলেনস্কি। ইউরোপের পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিডার’ এর নেতাদের একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনে পরিকল্পনাটি উপস্থাপনের জন্য জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি চার্লস মিশেল।







