ব্রাসেলস থেকে ইউক্রেনকে আরও সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। বুধবার (১৩ নভেম্বর) ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্লিঙ্কেন জানান, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তায় আরও জোরালো করবে। ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এই সমর্থন জারি থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ন্যাটো জোটকে শক্তিশালী করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দফতরে ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন করা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দাবি করে এবং সেই প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও কীভাবে তা করবেন, তা এখনও স্পষ্ট করেননি। আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেন দায়িত্ব ছাড়বেন।
ব্লিঙ্কেন বলেন, ইউক্রেনকে সমর্থন দিতে ন্যাটোকে কৌশলগত দিক থেকে আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা শিল্পক্ষেত্রে।
তিনি জানান, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদী লড়াই বা রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান থেকে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির জন্য সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।
ব্লিঙ্কেন বলেন, আমাদের চার বছরের অর্জনকে ধরে রাখতে বাইডেন প্রতিটি দিন ব্যবহার করবেন। ন্যাটোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত সমর্থন ইউক্রেনকে দিয়ে যাওয়ার কাজ চালিয়ে যাব আমরা।
রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের প্রসঙ্গে ব্লিঙ্কেন বলেন, এটি দ্বিমুখী সম্পর্ক এবং এতে উদ্বেগের কারণ রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে কিনা, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ন্যাটো মহাসচিব রুট বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে এখনও জয়ী হতে পারেনি। ইউক্রেন যাতে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে এবং রুশ আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারে, সেজন্য আমাদের আরও উদ্যোগ নিতে হবে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যাতে এই যুদ্ধে সফল না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার ব্রাসেলসে ব্লিঙ্কেনের আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা, ন্যাটোর ইউরোপীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ক্রিস্টোফার কেভোলি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে বৈঠকেও ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।









