রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন থেকে ১৯৯৯ সালে গ্যাসের ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে পাওয়া অন্তত ছয়টি টিউ-১৬০ বোমারু বিমান হামলায় ব্যবহার করছে বলে একটি তদন্তে উঠে এসেছে। রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টি (আরএফই/আরএল) পরিচালিত এক অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (২৬ নভেম্বর) এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আরএফই/আরএলের স্কিমস প্রকল্পের এই অনুসন্ধান বলছে, সোভিয়েত যুগে নির্মিত এই সুপারসনিক বোমারু বিমানগুলো ইউক্রেনের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
তদন্তে বিমানের পুরোনো সিরিয়াল নম্বরগুলো আর্কাইভ এবং অ্যাভিয়েশন রেজিস্ট্রির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে বলে কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।
১৯৯৯ সালে ইউক্রেন আটটি টিউ-১৬০ বোমারু বিমান, তিনটি টিউ-৯৫এমএস বোমারু বিমান এবং ৫৭৫টি কেএইচ-৫৫ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছিল। এসব অস্ত্রের বিনিময়ে ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের গ্যাস ঋণ মওকুফ করা হয়, যা এসব সামরিক সরঞ্জামের প্রকৃত মূল্যের মাত্র ১০ শতাংশ।
ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, রাশিয়ার একটি বিশেষ বিমান ইউনিট এসব বোমারু বিমান পরিচালনা করছে। এই ইউনিটকে বহু প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল কিয়েভে এক হামলায় আরএফই/আরএলের এক সাংবাদিক নিহত হন, যা এই ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।
টুপোলেভ টিইউ-১৬০, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বোমারু বিমানগুলোর মধ্যে একটি, যা মূলত বড় ধরনের আকাশপথে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে বেশ ব্যয়বহুল।
সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর ইউক্রেনে পরিচালিত এ বছরের অন্যতম বড় বিমান হামলায় এই বোমারু বিমানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।
সোভিয়েত আমলে তৈরি টিউ-১৬০ বোমারু বিমান এবং কেএইচ-৫৫ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্র বহনে সক্ষম করে তৈরি করা হয়েছিল।
এর আগে, আরএফই/আরএলের আরেকটি তদন্তে জানা গিয়েছিল যে, ১৯৯৯ সালের একই চুক্তিতে হস্তান্তরিত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের নৃশংসতাকেই নয়, বরং অস্ত্র হস্তান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলোর কৌশলগত ব্যর্থতাকেও সামনে এনেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড







